kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

করোনায় জনমিতিক ও আর্থসামাজিক পরিবর্তন

চাকরি খুঁজেছেন ৭৭% অভিবাসী

দুই বছরে বাল্যবিয়ে বেড়েছে ২৬ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাকরি খুঁজেছেন ৭৭% অভিবাসী

কভিড-১৯ মহামারিতে গত বছরের এপ্রিল-নভেম্বরে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের প্রায় ৭৭ শতাংশ হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজেছেন। ৬১ শতাংশ পরিবারের অন্তত একজন সদস্য কভিড-১৯ মহামারিতে চাকরি বা উপার্জনের সুযোগ হারিয়েছেন। ওই সময় অনুষ্ঠিত বিয়ের মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ (৭৭%) কনের বয়স ১৮ বছরের নিচে, যা ২০১৮ সালে জরিপ করা জাতীয় বাল্যবিয়ের হারের (৫১%) চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। শহরের (৭০%) তুলনায় গ্রামে (৮১%) বাল্যবিয়ের ঘটনা বেশি ঘটেছে। ব্র্যাক, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এই গবেষণায় করোনাকালে বিপরীতমুখী অভিবাসনের প্রভাবে বাংলাদেশের মধ্যমমানের শহর, উপজেলা এবং গ্রামীণ অঞ্চলে জনমিতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশের ওপর পরিবর্তনগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

‘কভিড-১৯-এর কারণে জনমিতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনসমূহ : নতুন পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য ও ফলাফল গতকাল একটি অনলাইন পলিসি ডায়ালগের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম। আলোচক হিসেবে যোগ দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএন উইমেনের বাংলাদেশ কার্যালয়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা।

সংখ্যাগত ও পরিমাণগত গবেষণা কৌশলের মাধ্যমে ২০২০ সালের ১০ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় হাজার ৩৭০টি খানায় এই জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে গত বছরের এপ্রিল-নভেম্বর সময়কালকে ‘রেফারেন্স পিরিয়ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে বিবিধ পরিস্থিতির শিকার হয়ে যারা দেশ ও দেশের বাইরে থেকে নিজ বাসভূমে ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছে তাদের জীবনযাত্রায় সামগ্রিকভাবে যে ধরনের প্রভাব পড়েছে তার ওপর এই গবেষণায় বিশেষভাবে দৃষ্টিনিবদ্ধ করা হয়েছে।

গবেষণার ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া খানাগুলোতে প্রায় ২৫ শতাংশ ফেরত আসা অভিবাসী অভিবাসন ঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বিগ্ন, যার গড় পরিমাণ ৭৬ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা। প্রায় ৪৪ শতাংশ জানিয়েছে, তারা কোনো উপার্জনমূলক কাজ পায়নি। তাদের মধ্যে কিছু পরিবার সঞ্চয় উত্তোলন করে বা বিভিন্ন সম্পদ ভাড়া বা বন্ধক দিয়েই তাদের খরচ চালাচ্ছে।

জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোতে মহামারি চলাকালে গড়ে মাসিক রেমিট্যান্স ৫৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এটি এই সময়ের মধ্যে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহের জাতীয় প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। তবে পূর্ববর্তী গবেষণায় এর একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা রয়েছে তা হলো—সাধারণ পরিস্থিতিতে পরিবারসমূহের প্রাপ্ত প্রায় অর্ধেক রেমিট্যান্সই আসে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে (যেমন হুন্ডি, হাউস কিংবা যাত্রী বহন করে নিয়ে আসে) যা করোনার কারণে বিঘ্নিত হয়েছে।