kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

লকডাউনেও ‘ঈদ প্যাকেজ’ নিয়ে তৎপর হোটেলগুলো

পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারের হোটেলগুলো নানা ধরনের ছাড়ের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




লকডাউনেও ‘ঈদ প্যাকেজ’ নিয়ে তৎপর হোটেলগুলো

দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান লকডাউন উপেক্ষা করেই দেওয়া হচ্ছে ঈদ প্যাকেজ। সরকারিভাবে ১৬ মে পর্যন্ত দেশের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়ের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।

মধ্য মার্চ থেকে দেশে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ জন্য পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে দায়ী করেছিলেন। তিনি তখন দাবি করেন, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ বেড়েছে।

জানা যায়, বিশেষ কিছু দিনে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ভিড় বাড়ে। এর মধ্যে ঈদের ছুটি অন্যতম। আসন্ন ঈদে বেড়ানোর মতো তেমন ছুটিরও সুযোগ থাকছে না। এর পরও সাগর পারের বিলাসবহুল হোটেলগুলো বিভিন্ন অনলাইনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে আতিথেয়তা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। করোনাকালের এ রকম বিজ্ঞাপন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্নও।

জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক জেলার মানুষ অন্য জেলায় যাওয়ার সুযোগই এখন নেই। কক্সবাজারে ভ্রমণকারীদের আসা অনেক আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গোটা পর্যটনকেন্দ্রটিই যেখানে বন্ধ, সেখানে নতুন করে পর্যটকদের প্রলোভন দেওয়ার কাজটি রীতিমতো অপরাধ।’

তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রের সব কিছুই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই প্রলুব্ধ করে কক্সবাজারের কোনো হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যদি ভ্রমণকারীদের আনার প্রমাণ মেলে তাহলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে হোটেল-মোটেল বন্ধ রাখার কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকার বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনায় রেস্তোরাঁগুলো খোলা রেখে প্যাকেটজাত করে খাবার বিক্রির কথা রয়েছে। তবে আবাসিক হোটেলের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ নেই।’

হোটেল সি-গালের প্রধান নির্বাহী (সিইও) রুমী সিদ্দীকি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হোটেলগুলোতে ঈদের বিশেষ ছাড় দেওয়ার অনলাইন বিজ্ঞাপন অনেকেই প্রতিবছরই দিয়ে থাকে। সম্ভবত এবারও তাই দিয়েছে।’ তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন হোটেল বন্ধ করেনি। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ হোটেলকক্ষ ভাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

কক্সবাজারের অন্যতম পাঁচতারা হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্ট। এই হোটেলটি ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য ফেসবুকে নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা পর্যটকদের জন্য ‘ঈদ রিক্রিয়েশন প্যাকেজ’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে তাদের ফেসবুক পেজে। শুধু কক্সবাজারই নয়, ঢাকার আশপাশে বিভিন্ন রিসোর্ট এখন পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পুরোপুরি সক্রিয়। গাজীপুরে অবস্থিত একটি রিসোর্টের এক কর্মকর্তা জানান, এলাকার প্রায় সব রিসোর্টই এখন খোলা।

যেসব রিসোর্ট ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের মধ্যে রয়েছে সারা রিসোর্ট। রিসোর্টটির জনসংযোগ ম্যানেজার ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে খুবই সীমিত পরিসরে চালু করেছেন তাঁরা। তাঁদের সিলেক্টেড গেস্টদের জন্যই এই অফার দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁদের রিসোর্টে ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। তাঁরা করোনার শুরু থেকেই সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন বলে দাবি করেন ইসমাইল।

অন্যদিকে হোটেল সায়মান বিচ রিসোর্টের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আসাদুল হক বলেন, তাঁরা ঈদের ছাড় নিয়ে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন। তাই এবারও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় হোটেল বন্ধ রাখার কথা নেই। তাই তাঁরা বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। আগামী ১৬ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী লকডাউন রয়েছে। লকডাউনের সময় যদি বাড়ানো হয় তাহলে তাঁরা বিজ্ঞাপন দিলেও হোটেলের কক্ষ ভাড়া দেবেন না।

গাজীপুরের শতাধিক রিসোর্টের বেশির ভাগই খোলা। যে কয়েকটি বন্ধ রয়েছে সেগুলোও ঈদের দিন থেকে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সব রিসোর্টই ঈদ উপলক্ষে দিতে যাচ্ছে বিশেষ ছাড়।

গতকাল শুক্রবার যোগাযোগ করা হলে অভিজাত গ্রিন ভিউ গলফ রিসোর্টের রিজার্ভেশন বিভাগের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, দ্বিতীয় দফার লকডাউনে তাঁরা রিসোর্ট চালু রেখেছেন। সাড়াও পেয়েছেন ভালো। ঈদ উপলক্ষে কয়েক ধরনের ছাড় দিয়ে প্যাকেজ চালু করতে যাচ্ছেন।

সারাহ রিসোর্টের সেলস অ্যান্ড রিজার্ভেশন বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মাজাহারুল ইসলাম বলেন, এবার লকডাউনের পর থেকে তাঁদের রিসোর্ট বন্ধ রয়েছে। তবে ঈদের দিন থেকে চালু হবে। তাঁরাও ঈদে একগুচ্ছ ছাড় দিচ্ছেন।

ছুটি রিসোর্টের রিজার্ভেশন বিভাগের একজন কর্মী জানান, তাঁরাও রিসোর্ট চালু রেখেছেন। বুকিং ভালো ছিল। প্রতিবছরই ঈদে চাপ থাকে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। ভালো সাড়া পাচ্ছেন। ঈদের দিন থেকে শুরু হবে তাঁদের সাত দিনের ‘ঈদ প্যাকেজ’।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর লকডাউনে রির্সোট ও অবকাশকেন্দ  নোটিশ দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এবার সেরকম নোটিশ দেওয়া হয়নি।  স্বাস্থ্যবিধি মেনে রিসোর্ট পরিচালনা করতে বাধা নেই।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার ও শরীফ আহমেদ শামীম, গাজীপুর)

 



সাতদিনের সেরা