kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

হালিশহরে পাওয়া কঙ্কালের রহস্য উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হালিশহরে পাওয়া কঙ্কালের রহস্য উন্মোচন

চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থেকে উদ্ধার করা কঙ্কালের রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে উদ্ধার করা কঙ্কালের রহস্য এবং হত্যার শিকার ব্যক্তির পরিচয়।

হত্যার শিকার ব্যক্তির নাম রুবেল (২৭)। তিনি নীলফামারী সদর থানার গৌরগ্রাম এলাকার আজিজিয়া রহমানের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ব্যক্তির নাম সোহরাব হোসেন বলী (৫৫)। সে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার সিন্দুর্না ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের মৃত মনছুর আকন্দের ছেলে। গত বুধবার তাঁকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে সোপর্দ করা হয়। এরপর তিনি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মেট্রো  অঞ্চলের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ২ মার্চ দুপুরে হালিশহর থানার চৌচালা এলাকা থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরে হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। কঙ্কালটি উদ্ধারের পরপরই নীলফামারী জেলার বাসিন্দা শামসুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির বরাত দিয়ে দাবি করেন, এই কঙ্কাল তাঁর ভাই রুবেলের হতে পারে। এর আগে সে ওই এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে।

পরে মামলাটি পিবিআই তদন্ত শুরু করে। আদালতের নির্দেশে কঙ্কালের ডিএনএ এবং শামসুলের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দুজনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার করা কঙ্কাল রুবেলের। এরপর হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ প্রযুক্তির সহযোগিতা নেয়। প্রায় দুই মাস চেষ্টা চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয় পিবিআই।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি সোহরাব হোসেন বলেন, ছয় বছর আগে তিনি নীলফামারী থেকে চট্টগ্রামে এসে হালিশহর এলাকায় কৃষিকাজের শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। পাশের জমিতে কাজ করতেন রুবেল (২৭)। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। রুবেল এক হাজার টাকায় ১০০ টাকা হারে দাদনে টাকা দিত। সোহরাবও রুবেলের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেয়। পর্যায়ক্রমে অন্য বন্ধুদেরও দাদনে ২৮ হাজার  টাকা নিয়ে দেয়। পাঁচ-ছয় মাস পর রুবেল টাকা ফেরত চাইলে সোহরাব দিতে পারেনি। এ কারণে দুজনের মধ্যে বিতণ্ডা হয়। এক রাতে দুজনের মধ্যে বিতণ্ডার এক পর্যায়ে রুবেল কোদাল দিয়ে সোহরাবের হাতে, পায়ে ও পিঠে কোপ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহরাব দা দিয়ে রুবেলের মাথায় কোপ দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যান।

এরপর রুবেলকে মাটিচাপা দেন সোহরাব। তারপর ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর চট্টগ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান সোহরাব।

পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ চাকমা বলেন, রুবেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি আগেই উদ্ধার করা হয়েছে। এখন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পারিপার্শ্বিক আরো কিছু বিষয় তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

 

 



সাতদিনের সেরা