kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

জরুরি টিকা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি

► দেশটির কাছে মোট ২ কোটি ডোজ চেয়েছে বাংলাদেশ
► আগামী বুধবার আসছে চীনের উপহারের পাঁচ লাখ ডোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জরুরি টিকা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দুই কোটি ডোজ টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৪০ লাখ ডোজ টিকার জন্য গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে সরকার, যাতে দেশে দ্বিতীয় ডোজ অব্যাহত রাখা যায়। এ ছাড়া আগামী ১২ মে বুধবার চীনের উপহারের পাঁচ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে পৌঁছবে। এই টিকা আনতে চীনে ফ্লাইট পাঠাতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে টিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দূতাবাসের উদ্যোগগুলোর বিষয়ে অবহিত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় ডোজ অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জরুরি ভিত্তিতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৪০ লাখ ডোজ টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এক থেকে দুই কোটি ডোজ টিকা চেয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তাঁকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার। ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও সার্বক্ষণিক এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদেরও এ বিষয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কভিড টিকা পাঠিয়েছে কি না সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মিলারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীসহ (পিপিই) অনেক চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, কিন্তু টিকা পাঠায়নি। বাংলাদেশ যাতে আগেভাগে টিকা পায় সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ড. মোমেন হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক সুমনা গুহের বরাত দিয়ে জানান, খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে টিকা বা ওষুধ রপ্তানি করতে পারে না। আর ওই অনুমোদনপ্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে ওষুধ রপ্তানির জন্য চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে উড়ির চরে ঘূর্ণিঝড়ের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে শিক্ষকতা করতেন। সে সময় তিনিসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাসাচুসেটসের আইন সভায় একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। ওই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র তখন উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন সে দেশের সেনাদলের একটি অংশকে বাংলাদেশে ‘সি অ্যানজেল’ নামে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে পাঠিয়েছিলেন।

ড. মোমেন বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করকেও জরুরি ভিত্তিতে ৩০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাঠাতে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে ঢাকায় চীনের মিশন উপ্রপ্রধান হুয়ালং ইয়ান আগামী ১২ মে বাংলাদেশে চীনের টিকা আসার পরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘১২ মে। আমরা কোনো চেষ্টাই বাদ রাখছি না।’

গতকাল দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও বলেছেন, চীন ১২ মের মধ্যে পাঁচ লাখ ডোজ টিকা দিচ্ছে। দেশটির সরকারের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। দ্রুতই চীনের টিকা নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত চলে আসবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে আমাদের তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের চুক্তি থাকলেও সে দেশের বর্তমান ভয়াবহ অবস্থার কারণে সব ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। ভ্যাকসিন নিতে রাশিয়ার সঙ্গে সরকারের কথা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে শিগগিরই চুক্তি হবে আমাদের।’ তিনি আরো বলেন, অক্সফোর্ডের টিকা ভারত ছাড়াও বিশ্বের অন্য যে দেশগুলো উৎপাদন করছে তাঁরা ওই সব দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। খুব দ্রুতই টিকা সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গত ৩ মে টিকাসংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় কারিগরি কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেশে টিকা উৎপাদন ও আমদানির বিষয়ে নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া দেশীয় একটি কম্পানির সম্ভাব্য টিকা মানবদেহে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয় বলে সভা সূত্রে জানা যায়। সভায় সব বিষয়ই দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে জোরালো মতামত আসে। ওই সভায় দেশে কোন কোন কম্পানির টিকা তৈরির সক্ষমতা আছে এবং আরো কোন কম্পানিকে সক্ষম করে তোলা যায় কি না, সে ব্যাপারেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের টিকা দেশে উৎপাদনের চুক্তি প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হয়।

 

 



সাতদিনের সেরা