kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

অর্থমন্ত্রী বললেন

সেরাম টিকা না দিলে টাকা ফেরত পাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেরাম টিকা না দিলে টাকা ফেরত পাব

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট চুক্তি অনুযায়ী করোনার ভ্যাকসিন (টিকা) বাংলাদেশকে সরবরাহ করতে না পারলে অগ্রিম হিসেবে নেওয়া টাকা তারা ফেরত দেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বুধবার ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এই কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে চুক্তি করেছি।

এখানে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হয়েছে। তাই চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট করোনার ভ্যাকসিন দিতে না পারলে টাকা ফেরত পাব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ভ্যাকসিন আসবে না—এমন কিছু এখন পর্যন্ত আমরা জানি না। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। আমরা যখন চূড়ান্তভাবে জানতে পারব যে ভ্যাকসিন আসবে না, তখন চূড়ান্তভাবে এটি নিয়ে কথা বলতে পারব।’

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘তবে ভ্যাকসিন না এলে অবশ্যই টাকা ফেরত পাব। এক দেশ কি আরেক দেশের টাকা মেরে দেয় নাকি? আমরা বৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে চুক্তি করেছি। এটা তো গোপন কোনো কাজ নয়। কন্ট্রাক্টচুয়াল ডিভিশন তাদেরও আছে, আমাদেরও আছে। আমরা চেষ্টা করছি ভ্যাকসিন আনার জন্য।’

ভ্যাকসিনের জন্য অন্য সোর্সেও চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি আমরা একটা সোর্সের ওপর নির্ভরশীল থাকব না। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এখানে দেশের মানুষের জীবন-মরণ নিয়ে প্রশ্ন। তাই বিভিন্ন সোর্স থেকে যারা ভ্যাকসিন তৈরি করে এবং যাদেরটা গ্রহণযোগ্য, যাদের ভ্যাকসিনে কোনো আশঙ্কা নেই, তাদের থেকেও আমরা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি।’

সেরামের সঙ্গে চুক্তিতে ক্ষতিপূরণের সুযোগ রাখা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যেসব শর্ত থাকে তার সব শর্তই এই চুক্তিতে আছে। আমরা এখনই একদম ঘোষণায় চলে যেতে চাই না যে চুক্তি অনুযায়ী ভ্যাকসিন আসবে না। তারাও এখনো বলেনি যে তারা ভ্যাকসিন দেবে না।’

সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে গত বছরের নভেম্বরে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারিতে ৬০০ কোটি টাকার বেশি অগ্রিম হিসেবে দেয় সরকার, যা টিকার মোট দামের অর্ধেক। সেই চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে ছয় মাসে তিন কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। জানুয়ারিতে ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার পর ভারতে ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যে বিপুল চাহিদা তৈরি হওয়ায় এবং বিশ্বজুড়ে টিকার সংকটের কারণে ফেব্রুয়ারির চালানে বাংলাদেশ ২০ লাখ ডোজ হাতে পায়। এ ছাড়া ভারত সরকার উপহার হিসেবে ৩৩ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠিয়েছিল। এরপর ভারত সরকার মার্চে টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশের টিকা আসা আটকে যায়। নতুন সরবরাহ না পাওয়ায় প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া আপাতত বন্ধ রেখেছে সরকার।



সাতদিনের সেরা