kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

যশোর ও বেনাপোলের ২৯ আবাসিক হোটেল এখন কোয়ারেন্টিন সেন্টার

বেনাপোলে আটকা পড়া বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীর সংখ্যা কমছে

বেনাপোল প্রতিনিধি   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ভারত ভ্রমণে সরকারি নিষেধাজ্ঞায় স্থলবন্দরে আটকা পড়া বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। যশোরের বেনাপোল দিয়ে গত রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী দেশে ফিরেছে ৮৮ জন। আর ভারতে ফিরে গেছে চারজন। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশন থেকে এনওসি নিয়ে গত এক সপ্তাহে এক হাজার ২৯৬ জন যাত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফিরেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে আটকা পড়াদের মধ্যে ১২০ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে ফিরে গেছে।

এদিকে যশোর ও বেনাপোলের ২৯টি আবাসিক হোটেল এখন কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই হোটেলগুলোসহ বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থানে গত রবিবার পর্যন্ত মোট এক হাজার ২৯৬ জন ভারত থেকে আসা যাত্রী কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। এ ছাড়া যশোরের আশপাশের জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, ঝিনাইদহ ও নড়াইলে হোটেলগুলো কোয়ারেন্টিন সেন্টার করা হয়েছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি আহসান হাবিব গতকাল সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফিরে আসা যেসব যাত্রী করোনায় আক্রান্ত বা উপসর্গ রয়েছে তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে করোনা ইউনিটে পাঠানো হচ্ছে।

ভারতে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীরা বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছে। এই তালিকা গত কয়েক দিন দীর্ঘ হলেও এখন কমতে শুরু করেছে। ভারতফেরত প্রত্যেক পাসপোর্টধারী যাত্রীকে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক সেলফ কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। এই বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে কোয়ারেন্টিনে রাখতে গিয়ে জেলা প্রশাসন যশোরের প্রায় সব আবাসিক হোটেল রিকুইজিশন করেছে। তারকা হোটেলগুলোও বাদ পড়েনি। গত শুক্রবার জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে হোটেল মালিকদের নিয়ে এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অবশ্য গত বৃহস্পতিবার রাতেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবাসিক হোটেল রিকুইজিশনের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

যশোরে রিকুইজিশন করা ১৬টি আবাসিক হোটেল হলো জাবির হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, হাসান ইন্টারন্যাশনাল, সিটি প্লাজা, শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ডরমিটরি, ম্যাগপাই, আরএস, মণিহার, ম্যাক্স, সোনালী, সিটি হোটেল, শাহরিয়ার, বলাকা, নয়ন, নিউওয়ে, প্রিন্স, সিটি ও যশোর হোটেল। এসব হোটেলে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভারত থেকে ফিরে আসা পাসপোর্টযাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। এগুলোর মধ্যে হোটেল নয়নে ৩৭ জন, হাসান ইন্টারন্যাশনালে ৪৪, ম্যাগপাইয়ে ১৭, আরএস হোটেলে সাতজন, হোটেল ম্যাক্সে ১১ জন ও শেখ হাসিনা আইটি পার্কের ডরমিটরিতে ছয়জনকে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীর দরগাহ এতিমখানা ও মাদরাসায় ২০০, যশোর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ২৯, উপশহর ক্লিনিকে সাত, যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৪ এবং বেনাপোলের রজনীগন্ধা, পোর্টভিউ, আ্যাারিস্টোকেট, জুয়েল আবাসিক, চৌধুরী হোটেল, নিশাদ হোটেল, ফ্রেশ হোটেল, নাহিদ হোটেল, হোটেল সানসিটি, মৌ হোটেল, হোটেল সিটি, বেনাপোল পর্যটন ও রহমানিয়া হোটেলে রাখা হয়েছে ৩৫৩ জনকে।

এরই মধ্যে বেনাপোলের হোটেলগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইলের হোটেলগুলোতেও ভারতফেরত যাত্রী রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, খুলনায় ৭০০, ঝিনাইদহে ২৫০, নড়াইলে ১৫০ ও সাতক্ষীরায় ৪০০ জন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদের মধ্যে আর্থিক সংকটে থাকা যাত্রীদের রাখা হচ্ছে ঝিকরগাছার গাজীর দরগাহ মাদরাসায়। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার যাদের আর্থিক সংতি রয়েছে তারা ইচ্ছা করলে পাঁচতারা হোটেলেও থাকতে পারবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নাভারন সার্কেল এএসপি জুয়েল ইমরান জানান, যেসব স্থানে ভারতফেরত যাত্রীদের রাখা হয়েছে, সেখানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। ১৪ দিন অবস্থানের পর করোনা নেগেটিভ সনদপ্রাপ্তি সাপেক্ষে এসব যাত্রীকে নিজ বাড়িতে যেতে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, ‘ভারত থেকে যত যাত্রী ফেরত আসার কথা আমরা চিন্তা করছিলাম, তার থেকে অনেক বেশি এসেছে কয়েক দিনে। বেনাপোলের হোটেলগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে। সে কারণে এখন যশোর শহরের হোটেল রিকুইজিশন করা হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা