kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

ইলার জন্য চোখ মুছে ওরা অবিচল মানবসেবায়

শম্পা বিশ্বাস   

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইলার জন্য চোখ মুছে ওরা অবিচল মানবসেবায়

ইলার জন্ম হয়েছিল এক বিত্তবান বাবার ঘরে। বিয়ের পরে যাঁর গৃহকর্ত্রী হন তিনিও ছিলেন সমাজের এক সম্ভ্রান্ত ধনী ব্যক্তি। সারা জীবন বিত্তের মধ্যে থাকলেও ইলার হৃদয় ছিল মানবতার বৈভবে পরিপূর্ণ। দামি গাড়িতে চড়তেন ইলা। তবে পথশিশুদের কাছে যখন যেতেন তখন গাড়িটি পার্ক করতেন দূরে, যাতে কেউ তাঁর পরিচয়টা না জানে। এরপর মিশে যেতেন পথশিশুদের দলে। শুধু কি তাই! অসহায় মানুষের জন্য দিনভর তপ্ত রান্নাঘরে বিরামহীন কাজে থেকে বিধ্বস্ত হয়ে ঘরে ফিরতেন। তবু মুখে লেগে থাকত একচিলতে হাসি। কিন্তু মহামারি করোনা কেড়ে নিল ইলার সেই হাসি।

রওশান আরা ইলা বিদ্যানন্দের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। ৪৫ বছরের এই নারী একদিন মানবসেবার ব্রত নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হয়ে এসেছিলেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনে। যুক্ত হয়েছিলেন বিদ্যানন্দের ‘এক টাকার আহার’ বিতরণের সঙ্গে। নিরলস কাজের মধ্যেও কখনো মুখের হাসি ফুরায়নি তাঁর। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১০ এপ্রিল তিনি ছিন্ন করেছেন পৃথিবীর সব মায়া।

ইলার মতো এমন ত্যাগী প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে একটু একটু করে এগিয়ে চলছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। করোনার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত সংগঠনটির ১০ স্বেচ্ছাসেবক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ বছর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাসসহ ছয় স্বেচ্ছাসেবক একসঙ্গে করোনায় আক্রান্ত হন। তাঁরা সবাই চট্টগ্রামে সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। করোনাকে জয় করে ২১ এপ্রিল সবাই বীরদর্পে আবারও ফেরেন দুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবায়। গত বছরের ২০ নভেম্বর ৭০ শয্যার ‘বিদ্যানন্দ মা ও শিশু হাসপাতাল’ যাত্রা শুরু করেছিল। করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ায় সেই হাসপাতালটিই এখন কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে।

রমজানের মধ্যে সংগঠনটি প্রায় ১০ হাজার মানুষের দুয়ারে দুই বেলা পৌঁছে দিচ্ছে সাহির ও ইফতার। প্রতিদিন সাহিরর জন্য একটি করে গরু জবাই করা হয় বলে জানান সংগঠনটির সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক সুলতানা জান্নাত। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চরম মূল্য দেওয়ার মানসিকতা নিয়েই আমরা কাজ করি। আফসোস নেই যদি অন্যের সেবায় জীবনটা চলে যায়। কাউকে না কাউকে তো অবশ্যই সেবার জন্য এগিয়ে আসতে হবেই।’

সংগঠনটির ‘হেড অব ইমেজ অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ সালমান খান ইয়াসিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হার মানে না আমাদের কর্মীরা। তারা এই মহামারির মধ্যেও কাজ করে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কর্মীদের আক্রান্তের হার বেশি। কারণ গত বছর আমরা ছোট ছোট টিম করে দিয়েছিলাম, যেন একটি টিম আক্রান্ত হলেও তাদের সাইড করে অন্য টিমগুলো কাজ করতে পারে। এ বছর আমরা সেভাবে টিম করতে পারিনি। তবে আমরা সবাই টিকা নিয়েই কাজ করছি।’

সহকর্মীর মৃত্যুতেও কাজ থেমে নেই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের। এক হাতে চোখের জল মুছে অন্য হাতে কাজ করে চলেছেন কর্মীরা। প্রতিদিন হাজারো দরিদ্র আর অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে চলেছেন তাঁরা।



সাতদিনের সেরা