kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

নিলামে তিন হাজার টন পেঁয়াজ

বাজারে চাহিদা তুঙ্গে, তবু বন্দরে পড়ে আছে ফল

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজারে চাহিদা তুঙ্গে, তবু বন্দরে পড়ে আছে ফল

চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষায়িত ইয়ার্ডে পড়ে আছে ৪০ হাজার টন আপেল, মোসাম্বি, কমলা ও আঙুর। আমদানির পর এসব ফলের ছাড় নিচ্ছেন না আমদানিকারকরা। অথচ রোজায় ফলের চাহিদা বাড়তি। আমদানি কম থাকার অজুহাতে প্রতিবারই দাম বাড়ান ব্যবসায়ীরা। এবারও দাম বেশ চড়া।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত বাজার বুঝে ফল ছাড় করান ব্যবসায়ীরা। এ কারণে মাসের পর মাস ফলভর্তি কনটেইনারগুলো বন্দরে পড়ে থাকছে। এসব কনটেইনারে আপেল, মোসাম্বি, কমলা ও আঙুর ছাড়াও রয়েছে কিছু মাছ এবং আদা, রসুন ও পেঁয়াজ।

অনেক দিন ধরে বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনারগুলো পড়ে থাকায় বন্দরের পরিচালন ব্যবস্থায়ও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে শিপিং লাইনগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় কনটেইনার জট এড়াতে দ্রুত এসব পণ্য ছাড় নিতে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও চট্টগ্রাম চেম্বারকে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে বন্দর ইয়ার্ড দখল করে অন্তত ছয় মাস ধরে পড়ে থাকা তিন হাজার টন পেঁয়াজভর্তি কনটেইনার নিলামে তুলছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

ফলভর্তি কনটেইনারগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হয়। জাহাজে থাকা অবস্থায় এবং জাহাজ থেকে নামানোর পর বন্দরের বিশেষায়িত ইয়ার্ডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে কনটেইনারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়। এতে যত দিন পড়ে থাকে তত দিন বিদ্যুৎ সচল রাখতে হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সব আমদানিকারককে চিঠি দিয়ে সপ্তাহের অন্যদিনের মতো শুক্রবার, শনিবার, রবিবার এবং সরকারি বন্ধের দিনে এসব পণ্য দ্রুত খালাস করার তাগাদা দিয়েছি। এতে কিছু সুফল মিলছে।’

তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্দর ইয়ার্ডে ১৫২৯টি একক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার ছিল। জাহাজ থেকে যে পরিমাণ কনটেইনার নামে সেই পরিমাণ ছাড় না নিলে বন্দর ইয়ার্ডে জট তৈরি হয়। এ জন্য অনেক দিন ধরে বন্দর ইয়ার্ডে পড়ে থাকায় সাড়ে তিন শ একক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার নিলামে তোলার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমসে পাঠানো হয়েছে।

বিদেশি শিপিং কম্পানি পিআইএল বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি কনটেইনার যত বেশি ব্যবহার হবে তত বেশি আয়। এখন আমদানিকারক কনটেইনারে ফল এনে মাসের পর মাস বন্দরে রেখে দিচ্ছেন, ফলে আমরা সেই আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’

তিনি বলেন, তা ছাড়া দীর্ঘদিন কনটেইনার ছাড় না নিলে ভেতরের পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। কাস্টমস সেই পণ্য ধ্বংস করে এক বছর পর কনটেইনার ফিরিয়ে দেয়। তখন এক বছর পড়ে থাকার বিদ্যুৎ বিলও তাঁদের পরিশোধ করতে হয়। কনটেইনারের আয়ুও নষ্ট হয়।

চাইলে ফল আমদানিকারক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ইচ্ছা করে কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্য আমদানি করে বন্দরে ফেলে রাখে—তা না। কেনা দামের চেয়ে বাজারমূল্যে ধস নামলে কিংবা কাঙ্ক্ষিত পণ্য সরবরাহকারী না দেওয়াসহ নানা কারণে পণ্য বন্দরে ফেলে রাখার ঘটনা ঘটে।

একজন ভালো ব্যবসায়ী কখনো এই কাজটি করেন না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জুতার ব্যবসায়ী যখন হুজুগে হঠাৎ লাভের জন্য ফল আমদানি করেন, তখনই মূলত এই সমস্যা হয়।’

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কভিড মহামারি শুরুর পর লকডাউনের সময় বন্দরে বিপুল পরিমাণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার আটকা পড়ে। এতে জাহাজ ভেড়া পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

 



সাতদিনের সেরা