kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

সরকারি কিছু অফিস লকডাউনেও সচল

বাহরাম খান   

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারি কিছু অফিস লকডাউনেও সচল

লকডাউনের মধ্যেও থেমে নেই সরকারি অফিসের জরুরি কাজ। এবারের লকডাউনে গতবারের মতো সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসগুলো খোলা রেখে কাজ চলছে। এর পরও বেশির ভাগ সরকারি অফিস সাধারণ ছুটির মতোই বন্ধ আছে। যেসব অফিস জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত, তারা প্রয়োজনীয় জনবল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকে প্রযুক্তির সহায়তায় করছেন হোম অফিস।

ঢাকার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসগুলোর ব্যস্ততা তুলনামূলক কম। লকডাউনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে মাঠ প্রশাসনকে। ডিসি এবং ইউএনও অফিসে লকডাউনের সময় কাজের ব্যস্ততা আরো বেড়ে যায়। তবে সচিবালয়ে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের অফিসাররা পালাক্রমে কাজ করছেন। প্রতিদিনই খোলা থাকছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রায় দিনই অফিস করছেন। এখান থেকেই লকডাউনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আসে। তাই এই বিভাগে অনেক সময় সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস খোলা থাকে। মন্ত্রিপরিষদের একজন যুগ্ম সচিব বলেন, সরকারের সার্বিক কার্যাবলি এবং মাঠ প্রশাসন সমন্বয়ের কাজ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তাই এই বিভাগকে সব সময় কাজের মধ্যে থাকতে হয়। গতবারের সাধারণ ছুটির সময়েও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রতিদিন অফিস হয়েছে।

গত রবি, সোম ও মঙ্গলবার সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কিছু কিছু মন্ত্রণালয় খোলা আছে। সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস করছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কিছু মন্ত্রণালয়ে সীমিত পরিসরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত হয়ে কাজ করছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সেলিম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের যেকোনো ক্রাইসিস মুহূর্তে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কাজ বেড়ে যায়। তাই আমাদের মন্ত্রণালয় বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। সপ্তাহের সব কার্যদিবসে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে লকডাউনের মধ্যে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সারা দেশের সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ সরকারি সব ধরনের লেনদেন তাঁদের মাধ্যমে হয়। তাই চলমান লকডাউনে অনেক অফিস কমবেশি বন্ধ রাখার সুযোগ পেলেও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিয়ত অফিস করতে হচ্ছে।’

করোনাকালে লকডাউনের সময় সবচেয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় মাঠ প্রশাসনকে। তবে এবার ত্রাণ কার্যক্রম তুলনামূলক কম হওয়ায় ত্রাণসংক্রান্ত কাজে গতবারের চেয়ে ব্যস্ততা কিছুটা কম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লকডাউনসংক্রান্ত বিষয়ে গতবারের চেয়ে এবার বেশি ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে আমাদের।’ এর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন,  ‘গতবার সাধারণ ছুটি থাকায় এক ধরনের ব্যবস্থা নিলেই হতো। এবার লকডাউনে বৈচিত্র্য বেশি। সময়ে সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হচ্ছে। এসব বিষয় ব্যবস্থাপনায় অনেক বেশি সময় দিতে হচ্ছে।’

তবে কিছু কিছু কাজের জন্য মানুষকে সমস্যায়ও পড়তে হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী আলী আকবর খান দীর্ঘদিন পর দেশে এসেছেন। দ্রুতই আবার বিদেশে চলেন যাবেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের সমস্যা সমাধানে গিয়েছিলেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা অফিসে। কিন্তু লকডাউনের কারণে অফিসের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না। তাই নিজের কাজ না সেরেই বিদেশে চলে যাচ্ছেন আগামী সপ্তাহে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কাজটা হয়ে গেলে চিন্তামুক্ত থাকতাম। এখন লকডাউনের মধ্যে পড়ে যাওয়ায় কাজটা এবার হলো না। আগামীবার দেশে এলে চেষ্টা করব।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও জরুরি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অফিস সব সময় খোলা থাকছে। সরকার অনেক বড় ও জটিল ধরনের কার্যকলাপ পরিচালনা করে। কোন সরকারি অফিস খোলা থাকবে আর কাদের বন্ধ থাকবে, সেটা হিসাব করে বলা মুশকিল। তাই জরুরি প্রয়োজনের জন্য সব দপ্তরই অফিস খোলা রাখতে পারবে। আমাদের নির্দেশনায়  সেটাই বলে দেওয়া আছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে গণপরিবহন খুলবে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সরকার এসব বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তা করছে। কিন্তু ভারতের অবস্থা আমাদের নতুন করে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তাই যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে, সেটা গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমেই আসবে।’

 



সাতদিনের সেরা