kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

ডিএনএর নমুনা পাওয়া অজ্ঞাতপরিচয় দুজনের স্কেচ আঁকা কত দূর?

এম বদি-উজ-জামান   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিএনএর নমুনা পাওয়া অজ্ঞাতপরিচয় দুজনের স্কেচ আঁকা কত দূর?

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়নি দীর্ঘ ৯ বছরেও। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেলেও তারা চিহ্নিত হয়নি। ডিএনএর সন্ধান পাওয়া ওই দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে তাদের স্কেচ (অবয়ব) আঁকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই উদ্যোগও আলোর মুখ দেখেনি। এদিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আজ বুধবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

জানা যায়, অপরাধীদের শনাক্ত করতে চারটি নমুনা সংগ্রহ করে তাদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। সেটাও কয়েক বছর আগে। ওই ডিএনএ পরীক্ষায় সাগর ও রুনি ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া যায়। দেড় বছর আগে এই তথ্য হাইকোর্টকে জানান ওই হত্যা মামলার দায়িত্বে থাকা র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর হাইকোর্টে হাজির হয়ে আদালতকে বলেন,  “এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হিসেবে আট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কারো কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তারা কেউই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়নি। এফবিআই ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়। তার মধ্যে দুটি মৃত ব্যক্তিদ্বয়ের। অন্য দুটি ডিএনএর সঙ্গে গ্রেপ্তার করা আসামিদের ডিএনএ মেলেনি। অর্থাৎ অন্য দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএর ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য অপরাধীদের ‘অবয়ব’ তৈরির চেষ্টা চলছে।”

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যের পর হাইকোর্ট ২০২০ সালের ৪ মার্চের মধ্যে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ওই মামলার আর শুনানি হয়নি। এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তাকেও আর হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করার প্রয়োজন পড়েনি।

এই মামলায় সর্বশেষ গত বছরের ৫ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শফিকুল আলম ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন, কিন্তু মামলার তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি না থাকায় ওই আদালত ২১ এপ্রিল (আজ বুধবার) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

জানা যায়, মামলায় বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ ও আবু সাঈদ নামের ছয় ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক সাগর-রুনির কথিত পারিবারিক বন্ধু ও স্কলাসটিকা স্কুলের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার মো. তানভীর রহমান জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনি। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের এপ্রিলে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাবকে। এরই মধ্যে ৯ বছর পার হয়ে গেছে। ছয়বার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য  ৭৯ বার সময় নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা, কিন্তু তদন্ত আর শেষ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবয়ব পাওয়ার জন্য আমরা এখনো অপেক্ষা করছি। সেই রেজাল্ট এখনো পাইনি। তবে অন্যান্য দিকে তদন্ত চলছে।’



সাতদিনের সেরা