kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

পুতিনের বিষে মৃত্যুর মুখে নাভালনি

ভিন্নমত দমনে নোভিচক রাশিয়ার পুরনো অস্ত্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




পুতিনের বিষে মৃত্যুর মুখে নাভালনি

ছবি: ইন্টারনেট

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম সমালোচক আলেক্সেই নাভালনি। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাপক কূটনৈতিক অস্থিরতাও তৈরি হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) হুমকি দিয়েছে, নাভালনির কিছু হলে পুরো দায় পুতিন প্রশাসনকে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, কারাগারে নাভালনির মৃত্যু হলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে রাশিয়াকে।

গত আগস্টে বিমানে থাকা অবস্থায় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসা নাভালনি। পরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে জার্মানিতে নেওয়া হয়। জার্মান গবেষকরা জানান, তাঁর শরীরে ‘নোভিচক’ (এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক) পাওয়া গেছে। নাভালনি অভিযোগ করেন, তাঁর শরীরে বিষ প্রয়োগে পুতিনের হাত রয়েছে।

জার্মানিতে চিকিৎসা শেষে রাশিয়া ফিরেই গ্রেপ্তারের মুখে পড়েন ৪৪ বছর বয়সী নাভালনি। এরপর কারাগারে সুচিকিৎসার দাবিতে ৩১ মার্চ থেকে অনশন শুরু করলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত রবিবার তাঁর চিকিৎসকরা জানান, নাভালনি যেকোনো সময় হৃদরোগে কিংবা কিডনি বিকল হয়ে মারা যেতে পারেন। এই খবর সামনে আসার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমাদের চাপের মুখে গতকাল সোমবার রাশিয়া জানায়, তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য নাভালনিকে কারা হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

রাশিয়ায় সরকারবিরোধী রাজনীতিকদের শরীরে এ ধরনের বিষ প্রয়োগ কিংবা তাঁদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন নয়। এসব ঘটনায় প্রাণও গেছে অনেকের।

নাভালনি এর আগে দুইবার হামলার শিকার হন। ২০১৭ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে তাঁকে লক্ষ্য করে এক ধরনের তরল পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়। ওই ঘটনায় তিনি একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি আংশিক হারিয়ে ফেলেন। এরপর ২০১৯ সালে অনুমতি না নিয়ে বিক্ষোভ করায় তাঁকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর তাঁর শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

২০১৮ সালে লন্ডনের স্যালিসবুরি শহরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় রাশিয়ার গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা সের্গেই স্ক্রিপল ও তাঁর মেয়েকে। ব্রিটিশ সরকার  অভিযোগ তোলে, অন্য দেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করায় রাশিয়া তাঁদের দেহে নোভিচক প্রয়োগ করেছে।

২০০৬ সালের নভেম্বরে লন্ডনে বিষ মেশানো চা খাওয়ার পর মারা যান সাবেক রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আলেক্সান্দার লিতভিনেনকো। কয়েক বছর তদন্তের পর ২০১৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁর মৃত্যুর জন্য মস্কোকে দায়ী করে। ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বিষ প্রয়োগ করা হয় সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী পিয়োতর ভারজিলোভের দেহে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রেমলিনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী নেমসভকে। এ ছাড়া ইউক্রেনের ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে ছিলেন ভিক্টর ইয়ুশচেংকো। ওই সময় হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য অস্ট্রিয়ায় নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, তাঁর শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। সূত্র : এএফপি।