kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধেই এনএসইউ শিক্ষার্থীকে অপহরণ!

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধেই এনএসইউ শিক্ষার্থীকে অপহরণ!

ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর ৩১৬/বি কনকর্ড টাওয়ারের বাসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভিড়। কেউ পোশাকে, কেউ সাদা পোশাকে আসছেন। তাঁদের সবার দৃষ্টি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাব্বি হোসেন শুভর দিকে। তাঁরা শুভর কাছ থেকে জানার চেষ্টা করছিলেন, কিভাবে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল; অপহরণের পর কারা তাঁকে নির্যাতন করেছিল। গতকাল সোমবার সকালের দৃশ্য এটি।

এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে শুভ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানিয়েছেন, অহরণকারীরা শুধু তাঁকে নয়, তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও টার্গেট করেছিল। ফোনটিতে অপহরণকারীদের বিভিন্ন তথ্য ছিল। আর এ কারণে শুভকে হত্যার চেষ্টাও করে দুষ্কৃতকারীরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভুক্তভোগীর শরীরে অসংখ্য জখম করেছে অপহরণকারীরা। তবে চোখ বাঁধা থাকায় অপহরণকারী কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন শুভ।

অপহৃতের বাবা মোহাম্মদ আলীর ভাষ্য, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার ঝিকিড়ায় পারিবারিক সম্পত্তি ও একটি দোতলা বাড়ি নিয়ে তাঁর স্ত্রী জেমি পারভীনের চাচাতো ভাইদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ আছে। এ নিয়ে ২০১৯ সালে গ্রামের বাড়িতে জেমির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর জেমি রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে অপহৃতও হয়েছিলেন।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সে যাত্রায় স্ত্রী রক্ষা পেলেও অপরাধীরা পিছু ছাড়েনি। তারা বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় এসে স্ত্রী ও ছেলে কখন, কোথায় যায় তার খোঁজ রাখত। তারা আমার ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেছিল।’

গত ২০ মার্চ রাত ১২টার দিকে মায়ের ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হলে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোড থেকে অপহৃত হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাব্বি হোসেন শুভ। তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সিকিউরিটি গার্ডের কাছে চার্জে দিয়ে যান। শুভর বাবার কথা, ‘আমার ধারণা ওই মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে ছেলেকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে। কারণ অপহরণকারীদের অনেক অপকর্মের তথ্য ছিল ছেলের ফোনে।’

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার চাচাশ্বশুরের ছেলে মো. আব্দুল ছোবহান, আব্দুল হান্নান রতন, মো. মানিক, উচ্ছ্বাস ও বাবুল এবং তার সহযোগীরা অপহরণ করতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য পেয়েছি। এ কারণে তাদের আসামি করে ধানমণ্ডি থানায় অপহরণ মামলা করেছি।’

শুভর বাবা বলেন, সন্ত্রাসীরা তাঁর ছেলেকে অপহরণের পর চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে করে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর ২৫ দিন সেখানে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের সময় অপহরণকারীরা বারবার শুভর মোবাইল ফোনের কথা জানতে চেয়েছিল।

মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, ‘আমার চাচাশ্বশুরের ছেলেরা মূলত গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করতে না পেরে ছেলেকে অপহরণ করে। এর আগে চাচাশ্বশুরের ছেলেরা গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার দুটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। ওই দুটি কক্ষে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ও জাতীয় পতাকা ভাঙচুরের পর পায়ের নিচে ফেলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল তারা। এরপর তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। আড়ালে থেকে শুভ তার মোবাইল ফোনে ওই ছবি বন্দি করেছিল। পরে মামলা করার সময় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। ওই ছবিকে মামলার আলামত হিসেবে কাজে লাগানো হবে জানতে পেরে অপহরণকারীরা মোবাইলে থাকা সব কিছু মুছে ফেলতে শুভ, আমাকে ও আমার স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে আসছিল।’

ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, পারিবারিক বিরোধ ও জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ওই ছাত্রকে (রাব্বি) অপহরণের পর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য গভীরভাবে তদন্ত চলছে।

এদিকে কালের কণ্ঠ’র সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি অসীম মণ্ডল গতকাল সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার ঝিকিড়ায় গিয়ে শুভকে অপহরণ মামলার সন্দেহভাজন আসামিদের বাড়িতে গিয়ে কারো সাক্ষাৎ পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাড়ির বাসিন্দা জানিয়েছেন, পুলিশের ভয়ে তারা বাড়ি থাকে না।