kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

কোম্পানীগঞ্জে চেয়ারম্যানকে গুলি, রডপেটা

কাদের মির্জার নির্দেশে হামলা হয়েছে দাবি আওয়ামী লীগের

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




কোম্পানীগঞ্জে চেয়ারম্যানকে গুলি, রডপেটা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সিরাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরনবী চৌধুরীকে (৬৬) গুলি ও রড দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বসুরহাটের মাস্টারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে নুরনবী চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনার ঘণ্টা না পেরোতেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নুরুজ্জামান স্বপনের (৪৪) ওপরও হামলা হয়েছে। তাঁরা দুজনই বসুরহাটের মেয়র কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ। স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, কাদের মির্জার নির্দেশে এই হামলা হয়েছে। জড়িত সন্ত্রাসীদের সোমবার রাতের মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে আজ মঙ্গলবার থেকে রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

এলাকাবাসী জানায়, সকালে নুরনবী চৌধুরী তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী টিপুসহ মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে মাস্টারপাড়া এলাকায় পৌঁছলে কেচ্ছা রাসেল, নিজাম উদ্দিন লিটনসহ একদল সন্ত্রাসী তাঁদের পথ আটকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। তবে গুলির বিষয়ে তাঁরা কিছু বলতে পারেননি। স্থানীয় লোকজন নুরনবী চৌধুরীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা হাসপাতাল, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল জানান, সকালে মাস্টারপাড়া এলাকায় ওত পেতে থাকা কেচ্ছা রাসেল, নিজাম উদ্দিন লিটন, কসাই কাঞ্চন, শিপন, রাজু খান, দিদার ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা নুরনবী চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে সন্ত্রাসীরা তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেয়।

তিনি জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রশাসনকে সোমবার রাত পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম বাবর  বলেন, ‘নুরনবী চৌধুরীর ডান ও বাম পায়ের হাঁটুর নিচে দুই জায়গায় ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এটি গুলি বা রডের আঘাত হতে পারে। বিষয়টি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন। আঘাতের চিহ্ন অনেক ভেতরে চলে গেছে, তাই তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এ ঘটনার সঙ্গে কেচ্ছা রাসেল ও নিজাম উদ্দিন লিটনসহ অন্য সন্ত্রাসীদের নাম শোনা যাচ্ছে। আমরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’

হামলার ব্যাপারে জানতে বসুরহাটের মেয়র কাদের মির্জার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

সাংস্কৃতিক সম্পাদকের ওপরও হামলা : এদিকে নুরনবী চৌধুরীর ওপর হামলার পরই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নুরুজ্জামান স্বপনের (৪৪) ওপরও হামলা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের বৌদ্দনীগো বাড়ী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান অভিযোগ করেন, কাদের মির্জার নির্দেশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর অনুসারীরা স্বপনের ওপর হামলা চালিয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি জানান, স্বপনকে একা পেয়ে মারধর করা হয়েছে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।