kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

বনানীতে চিরঘুমে সুপারস্টার ওয়াসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বনানীতে চিরঘুমে সুপারস্টার ওয়াসিম

ঢাকাই সিনেমার সোনালি দিনের সুপারস্টার, ফোক, ফ্যান্টাসি ও অ্যাকশনধর্মী ছবির অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা ওয়াসিমকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে রাজধানীর শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে বেশ কিছুদিন শয্যাশায়ী ছিলেন এই চিত্রনায়ক। তিনি কিডনির রোগসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

গতকাল রবিবার বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে ওয়াসিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বনানী কবরস্থান সংলগ্ন মসজিদে কাদেরে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জানাজা। জানাজায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চলচ্চিত্রের সহকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান প্রয়াত নায়কের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। তাঁর মৃত্যুতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ শোক প্রকাশ করেছেন।

গত শতকের সত্তর ও আশির দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন ওয়াসিম। অভিনয়জীবনে ১৫২টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

১৯৭২ সালে ঢাকাই চলচ্চিত্রে ওয়াসিমের অভিষেক হয় সিনেমার সহকারী পরিচালক হিসেবে ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর ১৯৭৪ সালে প্রখ্যাত চিত্র নির্মাতা মহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। সিনেমাটি ব্যবসাসফল হলে রাতারাতি বনে যান সুপারস্টার। এরপর ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া এস এম শফি পরিচালিত ‘দি রেইন’ সিনেমা তাঁকে নিয়ে যায় বড় উচ্চতায়। তিনি হয়ে ওঠেন জনমানুষের নায়ক।

ওয়াসিম অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হলো—‘ডাকু মনসুর’, ‘জিঘাংসা’, ‘কে আসল কে নকল’, ‘বাহাদুর’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘মানসী’, ‘দুই রাজকুমার’, ‘সওদাগর’, ‘নরম গরম’, ‘ঈমান’, ‘রাতের পর দিন’, ‘চন্দনদ্বীপের রাজকন্যা’, ‘লাল মেম সাহেব’, ‘জীবন সাথী’, ‘রাজনন্দিনী’, ‘রাজমহল’, ‘বিনি সুতার মালা’ উল্লেখযোগ্য।

তিনি অলিভিয়া, অঞ্জু ঘোষ ও শাবানার সঙ্গে বেশিসংখ্যক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘দি রেইন’ সিনেমায় নায়িকা ছিলেন অলিভিয়া। এরপর ‘বাহাদুর’, ‘লুটেরা’, ‘লাল মেম সাহেব’, ‘বেদ্বীন’ সিনেমায়ও অলিভিয়ার সঙ্গে অভিনয় করেন। ‘রাজদুলালী’ ছবিতে শাবানার সঙ্গে অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছিল। অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ‘সওদাগর’, ‘নরম গরম’, ‘আবেহায়াত’, ‘চন্দনদ্বীপের রাজকন্যা’, ‘পদ্মাবতী’, ‘রসের বাইদানী’সহ বেশ কিছু সিনেমায়।

ওয়াসিমের পুরো নাম মেজবাহউদ্দীন আহমেদ। জন্ম ১৯৫০ সালের ২৩ মার্চ চাঁদপুরে। ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। ১৯৬৪ সালে বডি বিল্ডিংয়ের জন্য ‘মিস্টার ইস্ট পাকিস্তান’ খেতাবও অর্জন করেছিলেন ওয়াসিম।

ব্যক্তিজীবনে ওয়াসিম ছিলেন দুই সন্তানের জনক। বিয়ে করেছিলেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী রোজীর ছোট বোনকে। তাঁদের ছেলে দেওয়ান ফারদিন এবং মেয়ে বুশরা আহমেদ। ২০০০ সালে তাঁর স্ত্রীর অকালমৃত্যু ঘটে। ২০০৬ সালে ওয়াসিমের মেয়ে বুশরা আহমেদ মাত্র ১৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করে। ছেলে ফারদিন লন্ডনের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে সেখানেই স্থায়ী হয়েছেন।