kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা

এলপিজির দাম নির্ধারণ বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া যৌক্তিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এলপিজির দাম নির্ধারণ বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া যৌক্তিক

জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিইআরসি যে প্রক্রিয়ায় এলপিজির বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে তা বাজারে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ, নিরাপত্তা ও প্রতিযোগিতাকে বিঘ্নিত করবে। এ কারণে এলপিজির দাম নির্ধারণ বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়াটাই যৌক্তিক। এর জবাবে বিইআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা প্রতি মাসে এলপিজির নতুন করে দাম নির্ধারণ করবে না; বরং পরের মাসগুলো থেকে শুধু সিপির সঙ্গে দামের সমন্বয় করা হবে। আর দাম নির্ধারণে কোনো সমস্যা থাকলে বিইআরসি ও এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) মধ্যে আলোচনা করে তা নিরসন করার সুযোগ উন্মুক্ত আছে।

গতকাল শনিবার এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার আয়োজিত এমটুকে ইপি টকস অন ‘বিইআরসি’স এলপিজি প্রাইসিং অ্যান্ড ইটস সাসটেইন্যাবিলিটি’ শীর্ষক আলোচনায় এসব মতামত উঠে আসে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইপি সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন।

বিইআরসি সদস্য মকবুল ই এলাহী চৌধুরী বলেন, ‘ভোক্তা ও অপারেটর সকলের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এলপিজির সর্বোচ্চ বিক্রি মূল্য ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে মার্চের সিপি (সৌদি আরামকো কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুসরণ করে। এলপিজির দাম, পরিবহন খরচ, অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার দাম, স্থানীয় পরিবহন খরচ সব বিবেচনা করেই দাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরের মাসগুলো থেকে শুধু সিপির সঙ্গে দামের সমন্বয় করা হবে। লোয়াবের পক্ষ থেকে দাম রিভিউ করার জন্য যে আনুরোধ করা হয়েছে কমিশন তা অবশ্যই বিবেচনায় নেবে। তবে ব্যয়ের সব খাত তাঁরা হিসাবে নিয়েছেন, হয়তো লোয়াবের হিসাবের চেয়ে তাঁরা তা কম ধরেছেন। তবে মনে রাখতে হবে দাম নির্ধারণ করার দায়িত্ব বিইআরসির হলেও তা বাস্তবায়ন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে করতে হবে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বসুন্ধরা এলপি গ্যাস কম্পানির হেড অব ডিভিশন (সেলস) প্রকৌশলী জাকারিয়া জালাল। তিনি বলেন, ‘৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা দেশের এলপিজি শিল্পের সঙ্গে ৩০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। কিন্তু ছোট বাজারে বিপুল অপারেটর থাকার কারণে সাবসিডি দিয়ে বাজার ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তাতে দুই হাজার ৫০০ টাকায় আমদানি করা কিংবা এক হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা প্রতিটি সিলিন্ডার বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। গ্যাসের বিক্রি দাম নির্ধারণ করা একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু বিইআরসির নির্ধারিত দামে কস্ট অব ফান্ড, ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটর কমিশন, পরিবহন খরচ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হলে অপারেটররা ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতা ও সরবরাহ সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম তামিম বলেন, ‘রেগুলেটর বাজারে একটি পণ্যের দাম নির্ধারণের ফরমুলা করে দিতে পারে। সেটা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা-ও মনিটর করতে পারে তারা। কিন্তু পণ্যের বিক্রি মূল্য নির্ধারণ করে দিলে তা হবে অপারেটরদের হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়ার শামিল। এটা বাজারে মানসম্মত পণ্য নিরাপদভাবে সরবরাহ করার পরিবেশ বিঘ্নিত করবে। বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।’