kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

পাঁচ দেশে বিমান চলাচল শুরু

প্রথম দিনে সাত ফ্লাইট বাতিল ভোগান্তি, বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথম দিনে সাত ফ্লাইট বাতিল ভোগান্তি, বিক্ষোভ

আটকে পড়া প্রবাসীদের ফেরত পাঠাতে গতকাল যেসব ফ্লাইট ছিল, তার অর্ধেকই বাতিল হয়ে যায়। ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে ভোগান্তিতে পড়েন অনেক প্রবাসী। ছবি : লুৎফর রহমান

সাত হাজার টাকা অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া দিয়ে ‘লকডাউনের’ মধ্যে চাঁদপুর থেকে ঢাকা এসেছেন মো. সুমন। পথে পথে আটকা পড়ায় কয়েকটি পয়েন্টে টাকাও দিতে হয়েছে। করতে হয়েছে করোনা টেস্ট। নানা দুর্ভোগ পেরিয়ে ঢাকা এসে জানলেন ফ্লাইট বাতিল। তিনি বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হয়েছি ১৭ হাজার টাকা নিয়ে এখন মাত্র সাত শ টাকা আছে। আমাদের আগে জানালে লকডাউনের মধ্যে কষ্ট করে আসতাম না।’

ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সুমনের মতো অনেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েন। কঠোর লকডাউনে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশে আবার তা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুরে এসব ফ্লাইট চলাচলের কথা ছিল। কিন্তু গতকাল শনিবার ফ্লাইট চালুর প্রথম দিনেই ১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে সাতটি ফ্লাইট বাতিল করায় দুর্ভোগে পড়েন প্রবাসী শ্রমিকরা। এর মধ্যে আছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাঁচটি ফ্লাইট। বাকি দুটির মধ্যে বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ওমানের ফ্লাইট ও ফ্লাই দুবাইয়ের একটি। এর মধ্যে সৌদি আরবের তিনটি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী চারটি ফ্লাইট ছিল।

পর্যাপ্ত যাত্রীর অভাব ও সৌদি আরবে অবতরণের অনুমতি না পাওয়ার কারণেই ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সৌদি আরবের দাম্মামগামী ফ্লাইটের যাত্রী সিলেটের মোহাম্মদ হাসান জানান, দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ফ্লাইট বলে জরুরি ভিত্তিতে তাঁদের আসতে বলা হয়। অনেক কষ্ট করে বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন নির্ধারিত সময়ের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে অনেক যাত্রী টিকিট কেনেন। ফ্লাইট বাতিল হলে ট্রাভেল এজেন্টদের মোবাইলে তা জানিয়ে দেওয়া হয় বিমানের পক্ষ থেকে। কিন্তু এ তথ্য অনেক সময় ট্রাভেল এজেন্টদের কাছ থেকে যাত্রীরা পান না। এতে তাঁরা দুর্ভোগে পড়েন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক এ এইচ এম তৌহিদ উল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, পাঁচটি দেশে মোট ১৪টি বিশেষ ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নানা কারণে সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে সকাল সাড়ে ৯টায় মাসকাটের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে গেছে সালাম এয়ার।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফ্লাইট বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ : ফ্লাইট বাতিলের প্রতিবাদে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলসংলগ্ন বিমান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন যাত্রীরা। পরে বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানোর আশ্বাস দিলে প্রবাসী কর্মীরা শান্ত হন।

ফ্লাইট বাতিলের খবরে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রামে অবস্থানরত প্রবাসীরাও। গতকাল নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ করেন।

গালফ ট্রাভেলসের মালিক ও হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সভাপতি শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেক প্রবাসী টিকিট নিয়ে চট্টগ্রাম এসে শোনেন ফ্লাইট বাতিল। এখন তাঁরা দুই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। একটি হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া। এদিকে সৌদি এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আজ রবিবার থেকে শিডিউল ফ্লাইট চলবে এবং ১৪ থেকে ২১ তারিখ যাঁদের টিকিট করা ছিল বা আছে, তাঁদের নতুন করে টিকিট রি-ইস্যু করতে হবে। এরপর করোনা টেস্ট করে গমন করতে হবে। পর্যায়ক্রমে এপ্রিলের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ তারিখের যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।