kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘লকডাউনের’ তৃতীয় দিন

সদর রাস্তা ‘ফাঁকা’, গলি জমজমাট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সদর রাস্তা ‘ফাঁকা’, গলি জমজমাট

রাজধানীর চকবাজার এলাকায় বাঁশের ব্যারিকেডের ভেতর গিজগিজ করছে মানুষ, কেউ বা ব্যারিকেডের নিচ দিয়ে বাইরে আসছেন (বাঁয়ে)। অন্যদিকে নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশ রিকশা থামাতেই নেমে অন্যদিকে যাওয়া শুরু করেন যাত্রীরা। ছবি : শেখ হাসান ও লুৎফর রহমান

করোনাভাইরাস সংক্রমণ সামাল দিতে দেশজুড়ে জারি করা ‘লকডাউনের’ তৃতীয় দিন গতকাল শুক্রবার ছিল সরকারি ছুটির দিন। আগের দুই দিনের মতো প্রধান সড়কে লোক চলাচল তেমন ছিল না। গাড়িও ছিল একেবারেই কম। কিন্তু পাড়া-মহল্লার রাস্তা ছিল জমজমাট। ভ্যানে ফল, সবজিসহ নানা পসরা ছাড়াও প্রায় সব ধরনের দোকান খোলা দেখা গেছে। গতকাল জুমার দিন মসজিদগুলোতেও দেখা গেছে প্রচুরসংখ্যক মুসল্লি।

গত বুধবার থেকে লকডাউনের আদলে আট দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে সরকার। শিল্প-কারখানা, অবকাঠামো নির্মাণকাজ, ব্যাংক, শেয়ারবাজার ও জরুরি সেবা ছাড়া প্রায় সবই বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কোথাও গেলে পুলিশের মুভমেন্ট পাস লাগছে। এর আগে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে ৯ দিন বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

‘লকডাউনের প্রথম দিন কড়াকড়ি থাকলেও দ্বিতীয় দিনে এসে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যায়। তৃতীয় দিন সরকারি ছুটির দিন থাকায় প্রধান সড়কে গাড়ি কম থাকায় তল্লাশি চৌকিগুলোতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা বলতে গেলে বসে থেকেই সময় পার করেছেন। মাঝে-মধ্যে দু-একটি মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিয়েছেন। কোনো তল্লাশি চৌকিতেই পুলিশের কঠোর আচরণ দেখা যায়নি। জরিমানার কোনো ঘটনাও পাওয়া যায়নি।

সকাল সাড়ে ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন এলাকার তল্লাশি চৌকিতে একজন পুলিশ সদস্যকে একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে সতর্ক করে ছেড়ে দিতে দেখা যায়। বেলাল আহমেদ নামে এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আজকের ঢাকা একেবারে অন্যরকম, লোকজনই নেই।’

বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের শাপলা চত্বর ছিল প্রায় ফাঁকা। মাস্কবিহীন এক বৃদ্ধাকে মাস্ক পরিয়ে দেন একজন পুলিশ সদস্য, তাঁকে হাত ধরে সড়কও পার করে দেন।

খিলগাঁওয়ে কয়েকটি মোটরসাইকেল আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায় পুলিশকে। এর মধ্যে দুইটি মোটরসাইকেলের দুইজন যাত্রীকে বুঝিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা হেঁটে চলে যান।

গুলশান পুলিশ প্লাজার সামনের তল্লাশি চৌকিতে প্রায় আধাঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো যানবাহন দেখা যায়নি। বনানী ১১ নম্বর সড়কে পুলিশ সদস্যরা একটি প্রাইভেট কার আটকালে গাড়ির ভেতর থেকে এক নারী বের হয়ে এসে পুলিশকে সমস্যার কথা জানান। পরে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ছুটির দিনও বিমানবন্দর সড়কে যানবাহনের ভিড় থাকত। তবে গতকাল খুব অল্পসংখ্যক যানবাহন দেখা গেছে। উত্তরার আবদুল্লাহপুর হয়ে প্রতিদিন অনেক যাত্রী ঢাকা শহরে প্রবেশ করে এবং বের হয়। গতকাল এদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য।

কিন্তু ভিন্নচিত্র ছিল পাড়া-মহল্লায়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দেখা যায়, লালবাগের নবাবগঞ্জ সেকশনের পুলিশ ফাঁড়ি পার হয়ে নবাবগঞ্জ বাজারের সড়কের মুখে কয়েকটি বাঁশ লাগানো। রিকশা, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশের সুযোগ নেই এই সড়কে। তবে হেঁটে কিছুটা এগিয়ে গেলেই দেখা যায়, দলবেঁধে সড়ক বাতির নিচে ক্রিকেট খেলায় মেতে আছে কিশোররা। আরো কিছুটা এগিয়ে গেলে চোখে পড়ে জমজমাট চায়ের দোকান। পাশের এলাকা হাজারীবাগের রাতের দৃশ্যও প্রায় একই। কামরাঙ্গীর চরের গলিগুলো যেন আরো রমরমা। এমন জটলা মূলত ইফতারের পর থেকে শুরু হয়ে চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। রোজার কারণে দিনে চায়ের দোকানে ভিড় কম হলেও গলিতে গলিতে ভিড় কিন্তু মোটেও কম নেই।

চকবাজার এলাকায় প্রবেশের মূল সড়কগুলো বাঁশ দিয়ে আটকানো। তবে ভেতরে সব খাবার ও মিষ্টির দোকান খোলা। হাঁকডাক না থাকলেও কিছু ইফতারসামগ্রী, ফল ও মাঠার দোকান বসেছে। খাবারের দোকানগুলোতে বসে খাওয়া নিষেধ থাকলেও নাজিমউদ্দিন রোডের প্রায় সব দোকানেই পর্দা টানিয়ে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা দেখা গেছে।

আর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সব এলাকায় ইফতারের দোকানগুলোতে ভিড় জমে যায়। শারীরিক দূরত্ব মানার বালাই নেই।

নবাবগঞ্জ ও কামরাঙ্গীর চরের দোকানিরা দাবি করেন, তাঁরা পুলিশকে টাকা দিয়ে দোকান খোলা রাখেন। সন্ধ্যার পর খোলা রাখতে দোকান প্রতি ৮০-১২০ টাকা পর্যন্ত পুলিশকে দিতে হয়।

রোজায় প্রথম জুমার দিন ছিল গতকাল। রাজধানীর মসজিদগুলোতে ভিড় দেখা গেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, জুমার নামাজের সময় শরীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য। কিন্তু পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় জুমার জামাতের কাতার সড়কেও দাঁড়াতে দেখা যায়। রায়সাহেব বাজার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন আসাদুল ইসলাম। তিনি জানালেন, মসজিদে অন্য জুমার দিনের চেয়ে আজ (শুক্রবার) বেশি মুসল্লি ছিল। গত বছর ‘লকডাউনে’ কড়াকড়ি থাকলেও এবার সেটা ছিল না। তবে প্রায় সবার মুখে মাস্ক দেখা গেছে।

জুমার নামাজ শেষে অনেক মুসল্লিকে রাস্তায় আড্ডা দিতে দেখা যায়।



সাতদিনের সেরা