kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

অনন্তলোকে লোকসংস্কৃতির অনন্য সাধক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনন্তলোকে লোকসংস্কৃতির অনন্য সাধক

শামসুজ্জামান খান, জন্ম : ২৯ ডিসেম্বর ১৯৪০ মৃত্যু : ১৪ এপ্রিল ২০২১

করোনা কেড়ে নিল লোকসংস্কৃতির অনন্য সাধক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানকে। বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষের দিনই তিনি পাড়ি জমালেন অনন্তলোকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল  বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। ওই দিনই বাদ আসর পৈতৃক বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

এপ্রিলের শুরুতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। তাঁর স্ত্রীও আক্রান্ত হন। দুজনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। স্ত্রীর স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হলেও শামসুজ্জামান খানের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত রবিবার তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিনি স্ত্রী ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন।

শামসুজ্জামান খানের জন্ম ১৯৪০ সালের ২৯ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের চারিগ্রামে। ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। বিভিন্ন সময়ে মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্বিবিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্বিবিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন তিনি। ২০০৯ সালে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হন। তিন মেয়াদে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। এরপর তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার ছিলেন। সর্বশেষ বাংলা একাডেমির সভাপতি ছিলেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। কিছুদিন জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

ফোকলোর গবেষক হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। লোকসংস্কৃতি, লোকসাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে তাঁর লেখা বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যাও দেড় শতাধিক। বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফোকলোর চর্চা’, ‘বাংলাদেশের উৎসব’, ‘বাংলা সন ও পঞ্জিকা’, ‘ফোকলোরচিন্তা’, ‘বাঙালির বহুত্ববাদী লোকমনীষা’, ‘মুক্তবুদ্ধি’, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমকাল’, ‘মীর মশাররফ হোসেন : নতুন তথ্যে নতুন ভাষ্যে’, ‘বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা ও বর্তমান বাংলাদেশ’ প্রভৃতি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ ‘বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা’ শিরোনামে ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহমালা সম্পাদনা এবং ১১৪ খণ্ডে ‘বাংলাদেশের ফোকলোর সংগ্রহমালা’ সম্পাদনা।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার,  ২০০৯ সালে একুশে পদক ও ২০১৭ সালে তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেন।

অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ শোক জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় বলেন, ‘তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর  রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও আমার দেখা নয়াচীন—এই বইগুলোর সম্পাদনা ও প্রকাশে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। শামসুজ্জামান খান কর্মগুণে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

 



সাতদিনের সেরা