kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

করোনার কাছে হার ‘যোদ্ধার’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার কাছে হার ‘যোদ্ধার’

আবদুল মতিন খসরু, জন্ম : ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫০ মৃত্যু : ১৪ এপ্রিল ২০২১

করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে চলে গেলেন সাবেক আইনমন্ত্রী, বর্তমান সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু। বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিন খসরু গত ১৪ এপ্রিল বিকেল পৌনে ৫টায় ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ও কুমিল্লায় পাঁচটি জানাজা শেষে কুমিল্লায় নিজ গ্রাম মিরপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

মতিন খসরুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহসহ বহু রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবী শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ গতকাল বসেনি।

জানাজা শেষে শ্রদ্ধা

গতকাল সকালে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে অনুষ্ঠিত জানাজায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মাহফুজুর রহমান আল মামুনসহ দলমত নির্বিশেষে আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। জানাজা শেষে মুক্তিযোদ্ধা মতিন খসরুকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

জানাজা শেষে তাঁর কফিনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পক্ষে তাঁদের প্রতিনিধিরা  এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

খসরু ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের থানা ও জেলায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে ছিলেন কুমিল্লার অবিভক্ত বুড়িচং থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। ১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে তাঁর পেশা জীবন শুরু। ১৯৮২ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

মতিন খসরু প্রথম ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ (সপ্তম), ২০০৮ (নবম), ২০১৪ (দশম) ও ২০১৮ (একাদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালের জুন থেকে ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আইন প্রতিমন্ত্রী এবং এরপর ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত আইনমন্ত্রী ছিলেন। সর্বশেষ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তিনি আইনমন্ত্রী থাকাকালে জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে আইন পাস করা হয়। এ বিষয়ে তিনি জাতীয় সংসদে এক আবেগঘন বক্তব্য দেন। ওই অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার বিচার শুরু করা সম্ভব হয়। কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলারও বিচার করা গেছে।

তিনি দুইবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে পরাজিত হলেও গত ১০ ও ১১ মার্চ দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন। গত ১৩ মার্চ বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করা হলেও গত ১২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। ওই দিনই নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর আর সভাপতির চেয়ারে বসা হয়নি। ১৬ মার্চ ঢাকায় সিএমএইচে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে ১৩ এপ্রিল তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে। এর পর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে দ্বিতীয়, কুমিল্লার বুড়িচং কলেজ মাঠে তৃতীয়, ব্রাহ্মণপাড়া হাই স্কুল মাঠে চতুর্থ ও কুমিল্লার মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পঞ্চম জানাজা শেষে মিরপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

 



সাতদিনের সেরা