kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

হৃদয় জয় করা শিল্পী মিতা হক চলে গেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হৃদয় জয় করা শিল্পী মিতা হক চলে গেলেন

‘আহা! অমন পরিশীলিত সুরেলা কণ্ঠের দেখা মেলা ভার। জানি না, আর মিলবে কি না। জীবন ও শিল্পের এমন শুদ্ধতম মিলন কালেভদ্রে ঘটে। আনন্দের মাঝেই জীবন উথলিয়া ওঠে, এ কথা মিতাকে দেখলেই মনে হতো। দুঃখকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে জীবনের আনন্দে শিশুর মতো করতালি দিতেন মিতা।’ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হকের মৃত্যুতে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান  সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

করোনা মহামারিতে জনপ্রিয় শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর মৃত্যুর শোক না কাটতেই সরল আন্তরিকতা দিয়ে সবার মন জয় করে নেওয়া এই সংগীতসাধকের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মিতা হক রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রবিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। চার দিন আগে করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর হাসপাতাল থেকে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়েছিল। গত শনিবার দুপুরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফের তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মিতা হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চা এবং রবীন্দ্রসংগীতকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ গভীর শোক জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরও।

শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্বনামধন্য এই সংগীতগুরুর মরদেহ গতকাল সকাল ১১টা থকে কিছু সময়ের জন্য ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে রাখা হয়। এ সময় তাঁর অগণিত ভক্ত ও সহযোদ্ধারা ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। বাদ জোহর কেরানীগঞ্জের আটি ভাওয়াল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কেরানীগঞ্জের ভাওয়াল মনোহরিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা সাংবাদিক রেজাউল হকের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মিতা হকের জন্ম ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায়। চাচা রবীন্দ্র গবেষক ও সাংবাদিক ওয়াহিদুল হক, সন্জীদা খাতুন এবং ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খানের কাছে গান শিখেছেন তিনি। গান গেয়ে খ্যাতির শিখরে ওঠার পাশাপাশি তিনি আজীবন তাঁর জ্ঞানের রসদ ভাগ করে নিয়েছেন অন্যদের সঙ্গে। একাধারে দেড় দশক শিক্ষকতা করেছেন ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনে। সংগঠক হিসেবেও দীর্ঘকাল কাজ করে গেছেন তিনি। ছিলেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ছায়ানটের সদস্য। পাশাপাশি তিনি ‘সুরতীর্থ’ নামে একটি গানের স্কুল পরিচালনা করতেন। ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম ‘আমার মন মানে না’। এরপর বাংলাদেশ ও ভারত থেকে মোট ২৪টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। শিল্পী হিসেবে তিনি শুধু দেশেই নয়, পশ্চিমবঙ্গেও ছিলেন জনপ্রিয়।

সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২০ সালে মিতা হককে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার। ২০১৬ সালে তাঁকে দেওয়া হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক।

মিতা হক পাঁচ বছর ধরে জটিল কিডনি রোগে ভুগছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্দেশক খালেদ খান ছিলেন তাঁর স্বামী। অসুস্থ হয়ে খালেদ খান কয়েক বছর আগে মারা যান। তাঁদের একমাত্র সন্তান ফারহিন খান জয়িতাও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।