kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

আ. লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ. লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ২

প্রতীকী ছবি

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর (স্বতন্ত্র) সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।

গত শনিবার গভীর রাতে এবং গতকাল রবিবার ভোরে উলানিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম সুলতানী গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গতকাল বিকেল পর্যন্ত পুলিশ উভয় পক্ষের আটজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা সবাই সরকারদলীয় নেতাকর্মী।

নিহতরা হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রুমা আক্তার সরদারের সমর্থক সাইফুল সরদার (২৮) ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী আব্দুল হালিম মিলন চৌধুরীর চাচাতো ভাই সাঈদ চৌধুরী (২২)। সাইফুল ইউনিয়নের আশা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। সাঈদ একই ইউনিয়নের পশ্চিম সুলতানী গ্রামের কাইয়ুম চৌধুরীর ছেলে। দুজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মেহেন্দীগঞ্জের উত্তর ও দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রচার চলছিল। কিন্তু সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে এক বাসিন্দার উচ্চ আদলতে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ওই দুটি ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করে। এর জন্য দুই প্রার্থী একে অন্যকে দায়ী করেন। এরপর তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকবার হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনার জের ধরে সর্বশেষ সংঘর্ষে দুজন নিহত হলেন।

নিহত সাইফুল সরদারের স্ত্রী খাদিজা বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, শনিবার গভীর রাতে কাজী আব্দুল হালিম মিলন চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকরা রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে পূর্ব সুলতানী গ্রামে রুমা আক্তার সরদারের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তাঁর স্বামী সাইফুল সরদারকে কালীগঞ্জ সেতুর পাশের এলাকায় ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া মিলন চৌধুরীর সমর্থকরা কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

তবে কাজী আব্দুল হালিম মিলন চৌধুরী দাবি করেন, শনিবার রাত ১২টার দিকে প্রথমে রুমা আক্তারের সমর্থকরা তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাঁর চাচাতো ভাই সাঈদ চৌধুরীসহ কয়েকজন সমর্থক আহত হন। সকালে সাঈদকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন বলেন, পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে দুই গ্রামে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা