kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

সেনাবাহিনীর আয়োজনে বহুজাতিক সেমিনার ‘আর্মি চিফ’স কনক্লেভ’ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




সেনাবাহিনীর আয়োজনে বহুজাতিক সেমিনার ‘আর্মি চিফ’স কনক্লেভ’ অনুষ্ঠিত

ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে গতকাল অনুষ্ঠিত ‘আর্মি চিফ’স কনক্লেভ’ শীর্ষক সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল নারাভানে। ছবি : আইএসপিআর

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আয়োজনে ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে গতকাল রবিবার দেশি-বিদেশি সামরিক ও বেসামরিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে “আর্মি চিফ’স কনক্লেভ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে আয়োজিত বহুজাতিক সামরিক অনুশীলন ‘শান্তির অগ্রসেনা’-এর অংশ হিসেবে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি। সেমিনারে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘ফিউচার ট্রেন্ড অব গ্লোবাল কনফ্লিক্ট : রোল অব ইউএন পিস কিপারস’। আলোচনায় কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে, ভুটানের সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অপারেশন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দরজি রিনচেন, ফোর্স কমান্ডার ইউনাইটেড নেশনস মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন মালি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেনিস জিলেনসপোরে এবং ফোর্স কমান্ডার ইউনাইটেড নেশনস মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন দ্য সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিজিয়ন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিদকি ড্যানিয়েল ত্রাওর।

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, অরাষ্ট্রীয় শক্তির উত্থান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, রাজনৈতিক সংকট এবং পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা অপারেশন ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং ও জটিল হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষার জন্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রথাগত কৌশলগুলো সংশোধনের ওপর প্রাধান্য দেন।

সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শান্তিরক্ষীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কমিউনিটি-বেজড ইনফরমেশন শেয়ারিং, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, জাতিসংঘ সনদের পরিমার্জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন।

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে তা মোকাবেলায় অংশীদারির ভিত্তিতে শান্তি রক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, জাতিসংঘের মতবাদের নমনীয়তা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যথোপযুক্ত লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাজেট বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তিনি দৃঢ়চিত্তে জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান বিশ্বে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংঘাতগুলো আন্ত রাষ্ট্রীয় বিরোধের চেয়ে তীব্রতর হয়ে উঠছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কয়েকটি সমস্যার ওপর আলোকপাত করেন। প্রথমত, বর্তমান সংঘাতগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার পর্যন্ত বিভিন্ন মাত্রা যুক্ত হয়েছে; দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির অস্ত্রায়নে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বিরূপ ভূমিকা রয়েছে এবং তৃতীয়ত, চলমান বৈশ্বিক মহামারির কারণে শান্তিরক্ষার প্রকৃতি রূপান্তরিত হয়েছে। এই নজিরবিহীন বৈশ্বিক মহামারির ফলে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অর্থবহ পারস্পরিক সহযোগিতা, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসম্পর্কিত জরুরি অবস্থার উন্নয়ন অতীব প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সেমিনারে নৌ ও বিমানবাহিনীর এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক ও সিনিয়র সম্পাদক/সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী ও উপস্থিত অতিথিরা আগামী দিনগুলোতে বিশ্বে বিভিন্ন সংঘর্ষ মোকাবেলায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের অন্যতম প্রধান সহযোগী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আয়োজিত এই সেমিনার ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।