kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

৫৬% জটিল রোগীর চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৫৬% জটিল রোগীর চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত

গত বছর কভিড-১৯ মহামারিকালে বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবার পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি দ্রুত মূল্যায়নে দেখা গেছে, জনস্বাস্থ্যের বেশ কিছু ক্ষেত্রে সুফল অর্জনের জন্য আরো অধিকতর প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সমীক্ষাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও নবজাতক, বিভিন্ন রোগের টিকাপ্রত্যাশী পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, জরুরি রোগী, জটিল রোগে ভুগতে থাকা ব্যক্তি, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মহামারিকালে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে। এ পরিস্থিতির প্রতিকারের জন্য এবং কভিড-পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য খাতে অর্জিত সুফলগুলো ধরে রাখতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটিতে সুপারিশ করা হয়েছে। জটিল রোগে ভুগতে থাকা রোগীদের ৫৬.৩২ শতাংশের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫৪.৫১ শতাংশ আর্থিক অসুবিধা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচি (এইচএনপিপি) এবং অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ বিভাগ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস) গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। গতকাল রবিবার ‘বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবায় কভিড-১৯-এর প্রভাব : দ্রুত মূল্যায়ন’ শীর্ষক ওই গবেষণার ফল এবং সুপারিশ অনলাইনে প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ব্র্যাকের এইচএনপিপির সহযোগী পরিচালক ডা. মোর্শেদা চৌধুরী, বিইউএইচএসের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল আলমসহ অন্যরা আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে এই দ্রুত মূল্যায়ন পরিচালিত হয় দেশের আটটি বিভাগের ১৬টি জেলায় দৈবচয়নের মাধ্যমে দুই হাজার ৪৮৩টি খানায়। এতে ৬০.৮ শতাংশ খানায় কিছুটা অসুস্থতা ছিল (কভিড-১৯ বাদে) এবং ২৮.৬ শতাংশ জানিয়েছে যে তাদের চিকিৎসা খরচ বেশি হয়েছে। ১০ শতাংশ খানার অভিযোগ ছিল, হাসপাতালগুলো থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে তাদের অসুবিধা হয়েছে। দুই পঞ্চমাংশ খানা অভিযোগ করেছে সঠিক সেবার অভাবে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে।

বিশেষ করে মহামারির আগে এসব খানার ৫৪ শতাংশ প্রসূতি নারী প্রয়োজনীয় সেবা পাননি। ৩৭.৬ শতাংশ নারী প্রয়োজনের চেয়ে ১০ শতাংশ সেবা কম পেয়েছেন। জরিপের সময়কালে ২০ শতাংশ প্রসব হয়েছে প্রশিক্ষণহীন ধাত্রীদের মাধ্যমে। মূলত উচ্চ যাতায়াত খরচ এবং কভিড-১৯-এর ভয়ে গুরুতর অসুস্থ প্রতি সাতজনের একজন শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। শহরের তুলনায় গ্রামে সামগ্রিক পরিস্থিতি ছিল আরো খারাপ।