kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৫

পরস্পরকে দুষলেন মোদি ও মমতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী সহিংসতায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর (সিএপিএফ) গুলিতে। বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় আরেকজনের। গতকাল সকালে কোচবিহারের শীতলকুচিতে বিধানসভার চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণের সময় এই সহিংসতা ঘটে। এ ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে অন্যের দলকে দোষারোপ করেছেন।

স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সকালে ভোট শুরুর পর থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে। এর মধ্যে পাঠানটুলি শালবাড়ীর ২৮৫ নম্বর বুথে ভোট দিতে গিয়ে আনন্দ বর্মণ নামের এক কিশোর নিহত হয়। তার পরিবারের লোকজন নিজেদের বিজেপি সমর্থক দাবি করেছে, কিন্তু আনন্দ কোন দলের সমর্থক ছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়।

অন্যদিকে শীতলকুচির জোড়পাটকির ১২৬ নম্বর বুথের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়। তৃণমূলের দাবি, নিহতদের সবাই তাদের দলের কর্মী ছিলেন। আর এ ঘটনার জন্য দলটি দায়ী করেছে সিএপিএফকে। তৃণমূলকর্মীদের অভিযোগ, এই বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করছে।

তৃণমূলের স্থানীয় এক কর্মী অভিযোগ করেন, মানুষ দলে দলে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। ওই সময় বিনা প্ররোচনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালায়। বুথের ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর যেসব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল তাঁদের এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছে তৃণমূল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নির্দেশেই কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শীতলকুচির তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায়।

এদিকে গতকাল শিলিগুড়ি ও কৃষ্ণনগরের জনসভায় মমতাকে উদ্দেশ করে নানা মন্তব্য করেছেন নরেন্দ্র মোদি। কৃষ্ণনগরের জনসভায় তিনি বলেন, কালবৈশাখীতে তৃণমূল ও তাদের গুণ্ডারা উড়ে যাবে। মমতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের উৎসবেও আপনি মা-বোনদের চোখের জল ফেলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আপনার দুর্নীতি বাংলার এই হাল করেছে। বিজেপির প্রতি বাংলার মানুষের ভরসা বাড়ছে। বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার বাংলায় রাজনীতির নতুন পরিবেশ দেবে।’ মোদি আরো বলেন, ‘বাংলায় নারীদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে দেখেও দিদি চুপ করে আছেন। সিন্ডিকেটের খেলা শেষ হবে; টিএমসির খেলা শেষ হবে; হিংসার খেলা শেষ হবে; কাটমানির খেলা শেষ হবে; তোলাবাজির খেলাও এবার শেষ হবে।’ এদিকে শীতলকুচির ঘটনার জন্য অমিত শাহকে দায়ী করেছেন মমতা। গতকাল শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। বলা হচ্ছে যে আত্মরক্ষায় নাকি গুলি চালানো হয়েছে। মিথ্যা কথা। আসলে রাজনৈতিক নির্দেশেই এসব হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দোষ দেব না। তারা একজনের নির্দেশে চলে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে চলে। নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকলেও তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কথা শুনতে হয়। আজকের ঘটনার জন্য পুরোপুরি অমিত শাহ দায়ী।’ সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, এই সময়, টাইমস অব ইন্ডিয়া।