kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

বিদায় প্রিন্স ফিলিপ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদায় প্রিন্স ফিলিপ

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী প্রিন্স ফিলিপ (৯৯) মারা গেছেন। এই মৃত্যুতে ৭৩ বছরের জীবনসঙ্গীকে হারালেন রানি। গতকাল শুক্রবার বাকিংহাম প্যালেসের এক বিবৃতিতে ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে মহামান্য রানি তাঁর প্রিয়তম স্বামীর মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেছেন। তিনি  আজ (শুক্রবার) সকালে উইন্ডসর ক্যাসেলে শান্তির সঙ্গে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’

প্রিন্স ফিলিপ কয়েক মাস ধরে বেশ অসুস্থ ছিলেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে কিং এডওয়ার্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হৃদযন্ত্র পরীক্ষার জন্য পরে আরেকটি হাসপাতালে এক সপ্তাহ রাখা হয় তাঁকে। সেখানে সফলভাবে তাঁর হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা ও চিকিৎসা হয় বলে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। গত মাসের মাঝামাঝি তিনি হাসপাতাল ছাড়েন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন।

১৯২১ সালের ১০ জুন গ্রিসের রাজপরিবারে জন্ম প্রিন্স ফিলিপের। তাঁর বাবা ছিলেন গ্রিসের প্রিন্স অ্যান্ড্রু আর মা অ্যালিস ছিলেন ব্যাটেনবার্গের প্রিন্সেস। ১৯২২ সালে এক অভ্যুত্থানের পর তাঁদের পরিবারকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। এরপর রাজা পঞ্চম জর্জ তাঁদের উদ্ধার করে ফ্রান্সে পাঠিয়ে দেন। ফ্রান্সে লেখাপড়া শুরুর পর সাত বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে আত্মীয়-স্বজনের কাছে চলে আসেন এবং এরপর তাঁর স্কুলজীবন সেখানেই কাটে।

প্রিন্স ফিলিপ যখন ডার্টমাথে ব্রিটানিয়া রয়্যাল নেভাল কলেজের ক্যাডেট, তখন ওই কলেজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজা ষষ্ঠ জর্জ এবং রানি এলিজাবেথ, সঙ্গে ছিলেন তাঁদের দুই কিশোরী কন্যা প্রিন্সেস এলিজাবেথ ও প্রিন্সেস মার্গারেট। ওই সফরে দুই কিশোরীকে সঙ্গ দেন প্রিন্স ফিলিপ। তরুণ প্রিন্স ওই সফরে ১৩ বছরের প্রিন্সেস এলিজাবেথের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিলেন।

সেটা ছিল ১৯৩৯ সাল। ১৯৪২ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রিন্স ফিলিপ হয়ে ওঠেন রয়্যাল নেভির তরুণতম ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট। ওই সময় দুজনের মধ্যে প্রচুর চিঠি চালাচালি হয়। পরের বছর বড়দিনের সময় এলিজাবেথ তাঁর প্রসাধনীর টেবিলে প্রিন্স ফিলিপের একটি ছবি সাজিয়ে রাখেন। তবে তাঁদের সম্পর্ক গভীর হয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী দিনগুলোতে। কিন্তু রাজপরিবারের অনেকেই তাঁদের এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন। কারণ অনেকের দৃষ্টিতেই ফিলিপ ছিলেন রুক্ষ মেজাজের একজন মানুষ। কিন্তু এই বিরোধিতা তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার সঙ্গে পেরে ওঠেনি। ১৯৪৬ সালে ফিলিপ রাজার কাছে গিয়ে তাঁর রাজকন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং প্রথম সাক্ষাতের আট বছর পর ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের প্রথম সন্তান প্রিন্স চার্লসের জন্ম হয় বাকিংহাম প্রাসাদে ১৯৪৮ সালে।