kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

হঠাৎ ছুরি হাতে বেপরোয়া যুবক

দুজনের মৃত্যু, একজন সংকটাপন্ন

নরসিংদী প্রতিনিধি   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুজনের মৃত্যু, একজন সংকটাপন্ন

আগের রাতেই করেছিলেন গর্ভধারিণী মাকে জবাইয়ের চেষ্টা। ঘুম থেকে উঠেই গতকাল বুধবার সকালে ছুরি নিয়ে দৌড়। যাকে সামনে পেলেন তাঁকেই কোপালেন। তাঁর ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে থেমে গেছে দুই কৃষকের প্রাণস্পন্দন। একজন আছেন হাসপাতালে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে। এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছেন নরসিংদীর ইউনুস আলী (২৪)। গতকাল সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের নজরপুর ইউনিয়নের ছগরিয়াপাড়া গ্রামে ঘটে এই জোড়া হত্যার মর্মস্পর্শী ঘটনা।

এই ঘটনায় একই গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে অভিযুক্ত ইউনুস আলীকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাণ হারানো দুজন হলেন সদর উপজেলার ছগরিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আবুল ফজলের ছেলে ফরহাদ মিয়া (৬০) ও একই এলাকার মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে আলী আকবর (৫০)। ঘটনায় আহত সেচপাম্পের চালক সেন্টু মিয়া (৪৫) একই গ্রামের জনু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, ইউনুস এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। কথা বলেন কম, একাকিত্ব তাঁর পছন্দ। নিয়মিত নামাজও পড়েন। করছিলেন বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা, তবে মেডিক্যাল প্রতিবেদনে মস্তিষ্কে সমস্যার কথা উল্লেখ থাকায় তিনি দিতে পারেননি বিদেশে পাড়ি। এই নিয়ে হতাশাও ছিল তাঁর।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সকালে কৃষক ফরহাদ মিয়া ও আলী আকবর কাজ করছিলেন জমিতে। এ সময় মাদকসেবী ইউনুস আলী হঠাৎ ছুরি হাতে ওই জমিতে গিয়ে তাঁদের ওপর হামলে পড়েন। এক পর্যায়ে চলতে থাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রক্তে লাল হয়ে যায় সবুজ জমি। এ সময় ফরহাদ ও আলী আকবরের চিৎকারে সেচপাম্পের চালক সেন্টু মিয়া বাঁচাতে গেলে তাঁর ওপরও ছুরি চালান ইউনুস। এ সময় ঘটনাস্থলেই থেমে যায় আলী আকবরের জীবনঘড়ি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুর কাছে হারেন ফরহাদ মিয়াও। তবে ছুরিকাঘাতে আহত সেন্টু মিয়ার চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। খবর পেয়ে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য দুই লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত ইউনুসকে এলাকাবাসী পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, তাঁকে দেখে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয় না। তিনি কোনো কাজকর্মও করেন না। গত রাতে (মঙ্গলবার) তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে জবাই করতে চেয়েছিলেন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিমা শারমিন জানান, ফরহাদ নামের একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁর পিঠ ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী বলেন, ইউনুসকে আটক করার পর পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কী কারণে তিনি এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইউনুস মাদকাসক্ত বা মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, তাও ডাক্তারি পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা