kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

পি কে হালদারসহ ১২৯ জনকে হাইকোর্টে তলব

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ১৮০০ কোটি টাকা ফেরতের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পি কে হালদারসহ ১২৯ জনকে হাইকোর্টে তলব

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১২৯ জনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৪ ও ২৫ মে তাঁদের সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওই দিন হাজির হয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে নেওয়া ১৮০০ কোটি টাকা কিভাবে ফেরত দেবেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে তাঁদের বলা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কেন দুদককে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ (কম্পানি আদালত) এই আদেশ দিয়েছেন। গত ১৬ মার্চ এ আদেশ দেওয়া হলেও গতকাল বুধবার লিখিত আদেশ পাওয়া গেছে। নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) করা এক আবেদনে এ আদেশ দেন আদালত।

আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ১২৯ ব্যক্তি ১৮০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছেন না। এই টাকা উদ্ধারে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালত তাঁদের হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

আইএলএফএসএল থেকে যে ১২৯ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান ১৮০০ কোটি ২ লাখ ১৪ হাজার ৪১১ টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না তাঁদের নাম ও গৃহীত ঋণের টাকার হিসাব দাখিল করা হয়েছে। এই তালিকা থেকে দেখা যায়, পি কে হালদার ব্যক্তি নামে ও চারটি কম্পানির নামে ২৫৩ কোটি ৯৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬৮২ টাকা ঋণ নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছেন না। তিনি ব্যক্তি নামে মাত্র ৩৬ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৭ টাকা ঋণ নেন। আর চার কম্পানির নামে নেন ২৫৩ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ৫১৫ টাকা। পি কে হালদার যে চারটি কম্পানির নামে ঋণ নেন সেগুলো হলো—নিউট্রিকুয়াল লিমিটেড, উইনটেল ইন্টারন্যাশনাল, হল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও ইমেক্সো।

আইএলএফএসএলের টাকা উদ্ধারে সহযোগিতা করতে দেশে ফেরার ইচ্ছা ব্যক্ত করে বিদেশ থেকে চিঠি পাঠান পি কে হালদার। এই চিঠি সংযুক্ত করে আইএলএফএসএল গত বছর ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আবেদন দাখিল করে। ওই আবেদনে পি কে হালদার নিরাপদে দেশে ফিরে যাতে আদালতের হেফাজতে যেতে পারেন সে জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়। এ আবেদনে গত বছর ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট পি কে হালদার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখামাত্রই গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। এই আদেশের পর পি কে হালদার দেশে ফেরেননি।

আইএলএফএসএল থেকে আদালতকে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকায় তিনি (পি কে হালদার) দেশে ফিরছেন না। পরবর্তী সময়ে ফেরার তারিখ জানানো হবে। একই হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছর ১৯ জানুয়ারি এক আদেশে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, এমডি, বহুল আলোচিত পি কে হালদারসহ ১৩ পরিচালকের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সব সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পি কে হালদারের মা, স্ত্রী, ভাইসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সব সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া পি কে হালদারসহ এই ২০ জনের দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং তাঁদের গত পাঁচ বছরের আয়কর রিটার্ন হাইকোর্টে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা