kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

নির্দেশনা মানার বালাই নেই

বাজার, বিপণিবিতানে মাস্ক ছাড়াই ঘুরছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




নির্দেশনা মানার বালাই নেই

প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। ছাড়িয়ে গেছে বিগত বছরের সব রেকর্ড। তবু মানুষের মধ্যে সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। গণপরিবহনে কিছুটা ভিড় কমলেও ভিড় কমেনি বাজার, বিপণিবিতানসহ অন্যান্য স্থানে।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার গত ৩০ মার্চ নতুন করে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে। এসব নির্দেশনার মধ্যে সব ধরনের জনসমাগম (সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয়/অন্যান্য) সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে জনসমাগম নিরুৎসাহ করার জন্য বলা হয়েছে। শপিং মলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী খোলা বা উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনা করার কথা বলা হয়েছে। মসজিদসহ সব উপাসনালয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউছিয়াসহ কয়েকটি বিপণিবিতান ও মসজিদ ঘুরে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। ওই সব স্থানে যেসব জীবাণুনাশক টানেল ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ছিল, সেগুলোও বিকল দেখা গেছে।

বেশির ভাগ দোকানির মুখেই নেই মাস্ক : গতকাল ছুটির দিনে রাজধানীর বেশির ভাগ শপিং মল ও ফুটপাতের দোকানে মানুষের ভিড় ছিল। বেশির ভাগ দোকানির মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, চন্দ্রিমা, চাঁদনী চক, নূরজাহান মার্কেট ও নিউ সুপার মার্কেট এলাকায় মানুষকে গায়ে গা মিলিয়ে বেচাকেনা করতে দেখা গেছে।

কয়েক মাস আগেও নিউ মার্কেটের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় জীবাণুনাশক টানেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিল। গতকাল দেখা গেল সেই টানেলটিই নেই। নূরজাহান মার্কেটেরও একই অবস্থা। সেখান থেকেও জীবাণুনাশক টানেল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কেটগুলোর কোথাও নেই হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। নিউ মার্কেটের ভেতরের ফাঁকা জায়গায় বসানো দোকানগুলোর মধ্যে কোনো দূরত্ব না থাকায় কিছুটা দূরে দূরে ক্রেতাদের জটলা ছিল। এই মার্কেটগুলোর সামনে ফুটপাতের অবস্থা ছিল আরো খারাপ। ফুটপাতের দোকানে ভিড় করে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে লোকজনকে। ফুট ওভারব্রিজে দোকান বসানোর কারণে সেখানেও ছিল একই চিত্র।

শ্যামলী থেকে আসা বুশরা আমিন কালের কণ্ঠকে বলছিলেন, ‘যতটুকু সম্ভব অন্যের কাছ থেকে দূরেই থাকি। তবে মার্কেটে তো এটা হয় না। বাসায় গিয়ে ভালোভাবে ফ্রেশ হয়েই ঘরে ঢুকব। সঙ্গে মাস্ক রাখি।’

মোজাম্মেল হোসেন নামের নিউ মার্কেটের এক দোকানি বলেন, ‘যত যা-ই কন, এত ছোট এলাকায় এত মানুষের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব কেমনে রাখা যায়। এখন সব কিছু মাইনা নিছি। কপালে থাকলে করোনা হইব আর আল্লাহ চাইলে সুস্থ থাকুম।’

কাঁচাবাজারগুলোতে দূরত্ব বজায় রাখা, দোকানগুলো নির্দিষ্ট দূরত্বে বসানো, হাত ধোয়াসহ স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানছে না ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ। মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই চিত্র। কেউ পরছে, কেউ পরছে না অথবা পরলেও থুতনির নিচে নামিয়ে রাখছে।

রাজধানীর মালিবাগ, মুগদা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের পাঁচজনই মাস্ক পরছে না। মুগদা বাজারের প্রতিটি দোকানেই ক্রেতারা গায়ে গায়ে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছিল। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। বিশেষ করে মাছ বাজারগুলোতে গাদাগাদি অবস্থাটা বেশি। দোকানগুলোরও নেই দূরত্বের বালাই। জানতে চাইলে মাস্ক ছাড়া সবজি কিনতে আসা আকাশ নামের এক ক্রেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাসা থেকে নিয়ে বের হয়েছিলাম। কিন্তু পথে আসতে মাস্কের ইলাস্টিক ছিঁড়ে গেছে। তাই ফেলে দিয়েছি।’ রাতুল নামের আরেকজন বললেন, তিনি আনতেই ভুলে গেছেন।

জুমার দিনে করোনামুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া : কয়েকটি মসজিদে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের মতোই জুমার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। তাঁদের অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। এমনকি গত বছর মার্চ মাসে যেমন আতঙ্ক ছিল তা-ও দেখা যায়নি। প্রতি জুমার মতো গতকালের জুমায়ও ইমাম সাহেবরা করোনামুক্তির দোয়া করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বেশির ভাগ মসজিদে কোনো নির্দেশনা যায়নি। জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সরকারের দেওয়া ১৮ নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে ১ এপ্রিল করোনা সুরক্ষাসংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠিটি রাজধানী থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সব মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘চিঠিতে বেশ কিছু নির্দেশনা আছে—মাস্ক পরিধান করা, হাত ধোয়া প্রভৃতি অন্যতম।’

পুরান ঢাকার ইসলামবাগ জামে মসজিদে দেখা গেছে, ছয়তলা ভবনের প্রতিটি তলায়ই মুসল্লিতে পূর্ণ। কারো মুখে মাস্ক আছে, কারো মুখে নেই। মুসল্লি বাদশা মিয়া বলছিলেন, গত বছর মার্চে করোনা পরিস্থিতি খারাপ অবস্থায় চলে যাওয়ার পর সরকারিভাবে মুসল্লিদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে নিরুৎসাহ করা হয়েছিল। ওই সময় জুমার নামাজেও মাত্র কয়েকজন মুসল্লি নিয়ে নামাজ পড়ানো হয়। কয়েক মাস পর করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়। উন্নতি হওয়ার পর মুসল্লিদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে জুমায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তখন প্রথম দিকে মুসল্লিরা প্রায় প্রত্যেকে জায়নামাজ সঙ্গে নিয়ে আসতেন এবং মুখে মাস্ক পরে শারীরিক দূরত্ব মেনে কাতারে দাঁড়াতেন। ধীরে ধীরে সেটাও কমে যায়। কয়েক মাস ধরে স্বাভাবিক সময়ের মতোই জুমার নামাজ আদায় করছেন তাঁরা।

এক প্রশ্নের উত্তরে বাদশা বলেন, ‘শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বা কতসংখ্যক মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন সেই ধরনের কোনো নির্দেশনার কথা আমরা জানি না।’

আরেক মুসল্লি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘করোনার আতঙ্ক তৈরি করে লাভ নেই। আল্লাহ যাকে এই রোগ দেবেন সে যতই নিরাপদ থাকার চেষ্টা করুক মুক্তি পাবে না। গত বছর থেকে এই চিত্রই তো দেখতে পাচ্ছি।’

 



সাতদিনের সেরা