kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

ট্রাকচালকের চোখে ঘুম অটোর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল চারজনের

আরো তিন জেলায় মা-মেয়েসহ নিহত ৬

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ট্রাকচালকের চোখে ঘুম অটোর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল চারজনের

বালুবাহী একটি ট্রাক চট্টগ্রামের দিকে আর একটি সিএনজিচালিত অটোট্যাক্সি রাঙ্গুনিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়ি দুটি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের দমদমা নামক স্থানে পৌঁছামাত্র মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অটোট্যাক্সিটির চার আরোহী। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ট্রাকচালক উচ্চ শব্দে হিন্দি গান বাজিয়ে ঘুম ঘুম চোখে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এই কারণেই ঘটে দুর্ঘটনাটি।

এ ছাড়া গতকাল বুধবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ ও বরগুনার আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনজন। প্রত্যক্ষদর্শী, থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

রাউজানে নিহতরা হলেন চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের মৃত শাহ আলমের ছেলে মো. মোর্শেদ (৩৮), কাপ্তাই কর্ণফুলী পেপার মিল এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে কামরুল ইসলাম (২৭), রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে মো. ইদ্রিস (৫৫) এবং নোয়াখালীর হাতিয়ার মৃত দেলু মাঝির ছেলে মো. সিরাজ (৫৫)। প্রত্যক্ষদর্শী মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বাড়ির পাশে সড়কে বিকট শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি, সড়কের ওপর দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশার ভেতর দুজনের এবং সড়কে দুজনের লাশ পড়ে আছে। পাশে উল্টে আছে বালুবাহী ট্রাক (চট্টগ্রাম-ড ১১-২২৩৩)।’ ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধার ও যান চলাচল স্বাভাবিক করার তৎপরতায় যোগ দেন চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন শামীম, পাহাড়তলী ইউপির চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিনসহ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে বিকেলে নিহতরা হলেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চানসিকাপন গ্রামের হোমিও চিকিৎসক চেরাগ আলীর স্ত্রী রাহেলা বেগম (৫০), তাঁদের মেয়ে কামরুন নেছা শিপা (২০) এবং ওসমানীনগর উপজেলার নিজ কুরুয়া গ্রামের মৃত তহির উল্লাহর ছেলে ও অটোরিকশাচালক শামীম মিয়া (৩৫)। হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের একটি বাস সিলেটগামী অটোরিকশাকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে অটোরিকশাটি একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে আছড়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দুটি মরদেহ এবং গুরুতর আহত তিনজনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিপার মৃত্যু হয়। বাস ও অটোরিকশাটি জব্দ করেছে পুলিশ।

ফরিদপুর সদর উপজেলা কানাইপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সকালে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আল-আমিন শেখ (২১) নিহত হন। তিনি সদর উপজেলার পশ্চিম গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত সোনামুদ্দিন শেখের ছেলে। করিমপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ চালক শাহীনকে (৩৩) ট্রাকটিসহ আটক করে। পরে আদালতের নির্দেশে চালককে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের নলকা সেতুর ওপর সকালে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক যাত্রীবোঝাই একটি ভ্যানকে ধাক্কা দিলে ভ্যানটির আরোহী এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। নিহত মোছা. সোহাগী খাতুন (৪০) সলঙ্গা থানার ভরমোহনী গ্রামের আব্দুস সোবাহানের স্ত্রী। ট্রাকটিসহ চালক আবুল কালামকে আটক করেছে পুলিশ।

আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়া হোসাইনপুর ছালেহিয়া কমপ্লেক্সের সামনে আমতলী-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে বিকেলে যাত্রীবাহী বাস একটি গরুবোঝাই টেম্পোকে চাপা দিলে ব্যবসায়ী মজিবর রহমান তালুকদার (৫০) নিহত হন। এ ছাড়া পাঁচটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন গবাদি পশু ব্যবসায়ী আলী হোসেন (৪৫) ও টেম্পো (টমটম) চালক আল আমিন (৩০)। মজিবর রহমানের বাড়ি পটুয়াখালীর হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায়। পুলিশ বাসটি ও চালকের সহকারী রুবেলকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা