kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

পুলিশ তদন্তে নেমে পেল দুই এনজিও কর্মকর্তার লাশ

গ্রেপ্তার ৩

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশ তদন্তে নেমে পেল দুই এনজিও কর্মকর্তার লাশ

প্রতীকী ছবি

ঢাকার নবাবগঞ্জে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির (এসডিসি) দুই কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম ও অভিজিৎ মালো তিন মাস ১১ দিনের ব্যবধানে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তদন্তে নেমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের দেওয়া তথ্যে ওই দুই কর্মকর্তাকে পাওয়া গেছে; তবে জীবিত নয়। গত সোমবার সন্ধ্যার পর উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর মুরগির ফার্ম ও অটোরিকশা গ্যারেজের পেছনে ইছামতী নদীর তীর থেকে পাশাপাশি মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ ও ঢাকা দক্ষিণ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ দল হত্যার পর গুম করা লাশ দুটি উদ্ধার করে বলে জানান নবাবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ।

নিহত রাজিবুল ইসলাম (২৯) ফরিদপুর জেলার গৌরীপুর এলাকার গোলাম সারোয়ারের ছেলে এবং অভিজিৎ মালো (২৮) একই জেলার নগরকান্দা উপজেলার আজিজা গ্রামের রণজিৎ মালোর ছেলে। তাঁরা এসডিসির চুড়াইন তালতলা শাখার মাঠ কর্মকর্তা (ক্রেডিট অফিসার) ছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চুড়াইনের দুর্গাপুর গ্রামের আনিসের ছেলে ও এনজিও এসডিসির সদস্য ঋণগ্রহীতা ইউসুফ আলী (৩৫), একই গ্রামের বাসিন্দা ও এনজিওটির সদস্য মুকলেছুর রহমানের ছেলে জনি (২৫) ও আইয়ুব আলীর ছেলে মনির হোসেন (৩০)।

ওসি সিরাজুল জানান, রাজিবুল গত বছরের ৫ ডিসেম্বর এবং অভিজিৎ চলতি মাসের ১৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানটি থেকে দায়িত্ব পালনে বের হয়ে নিখোঁজ হন। রাজিবুলের নিখোঁজের বিষয়ে ঘটনার দিনই এসডিসির শাখা ব্যবস্থাপক মো. জিন্নাত আলী এবং অভিজিতের বিষয়ে নিখোঁজের দিনই এসডিসির বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক সমরেশ চট্টোপাধ্যায় থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে রাজিবুলের নিখোঁজের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়। তাঁদের খোঁজে নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ ও ঢাকা দক্ষিণ ডিবি পুলিশের বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে গত সোমবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্য ও দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে ওই দুই কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের সহকর্মীরা এসে লাশ শনাক্ত করেন। লাশ দুটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানা হেফাজতে রাখা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অভিজিতের ঘটনায় থানায় আরো একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।