kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

মওদুদের শোকসভা করতে না পেরে ক্ষুব্ধ কাদের মির্জা

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মওদুদের শোকসভা করতে না পেরে ক্ষুব্ধ কাদের মির্জা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে শোকসভার কর্মসূচি দিয়েছিলেন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, কিন্তু শোকসভা করতে দেয়নি পুলিশ। গতকাল রবিবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে লোক পাঠিয়ে শোকসভা স্থগিত করতে বলা হয়। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে মেয়র কাদের মির্জা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন জাতীয় নেতার শোকসভা বন্ধের পরিণতি ভালো হবে না। তিনি দাবি করেন, রাজনীতি থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র চলছে।

গত শনিবার বিকেল ৫টায় বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা করেন কাদের মির্জা। ওই সভা থেকে রবিবার বিকেল ৪টায় একই মিলনায়তনে মওদুদ আহমদের শোকসভার কর্মসূচি দেন তিনি।

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই মেয়র আবদুল কাদের মির্জা মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে বসুরহাট পৌরসভায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি শোকসভা বন্ধের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের ঊধ্বর্তন

 কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গতকাল দুপুর ১টার দিকে কাদের মির্জাকে বলা হয়েছে বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে ডাকা শোকসভা স্থগিত করতে।

‘শোকসভা বন্ধের পরিণতি ভালো হবে না’

মওদুদের শোকসভা স্থগিত রাখতে পুলিশের নির্দেশের পর গতকাল দুপুর ২টায় কাদের মির্জা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে আসেন। তিনি বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান। তিনি একজন জাতীয় নেতা। আমি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর আত্মার মাগফিরাতের জন্য রবিবার বিকেলে পৌরভবনে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করি। হঠাৎ দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে একজন পুলিশ সদস্য এসে মিলাদ মাহফিল স্থগিত করতে বলেন। আমি তত্ক্ষণাৎ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাকে শোকসভা না করার জন্য বলেন।’

এ সময় কাদের মির্জা তাঁর ভাই ওবায়দুল কাদেরকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমাদের এক নেতা বলেছেন, কেউ যদি অধম হয়, আমরা কেন উত্তম হবো না। নেতাজির এ বক্তব্য মানুষের জন্য, নিজের ক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য নয়। আপনি এখানকার অভিভাবক হিসেবে যা করছেন একদিন আপনাকে এর প্রতিদান পেতে হবে। অভিভাবক যাঁরা নিজেদের দাবি করেন। অভিভাবকের কাজ কি এগুলো? শোকসভা বন্ধ করা কি অভিভাবকের কাজ?’ তিনি বলেন, ‘আজকে এভাবে আমাকে খাটো করার জন্য দলের উচ্চ পর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা ষড়যন্ত্র চক্রান্ত চলছে। বাংলাদেশে যখন যারা ক্ষমতায় আসে। কিছু কিছু লোক মনে করে এটা তার পারিবারিক সম্পত্তি। যা ইচ্ছা তা করবে, যা ইচ্ছা তা বলবে। এর বাহিরে আমি কিছু বলতে চাই না। আজকে আমাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য, আমার মুখ বন্ধ করার জন্য, আমাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য, আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য আজকের এ প্রগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটার পরিণতি কিন্তু ভালো হবে না, আমি জানি। যাঁরা এ নির্দেশ দিয়েছেন আপনিও একদিন এ ধরনের নির্দেশে লাঞ্ছিত হবেন, অপমানিত হবেন, অপেক্ষা করেন।’

কাদের মির্জা পৌরসভা নির্বাচনের আগে নানা সময় দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা তাঁর সমালোচনা শুরু করেন। কর্মসূচি, পাল্টা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে ওঠে। বিরোধীপক্ষের সঙ্গে কাদের মির্জার অনুসারীদের সংঘর্ষে একজন স্থানীয় সাংবাদিক ও যুবলীগকর্মী নিহত হন।

ফেসবুক লাইভে কাদের মির্জা বলেন, ‘আজকে এখানে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তাদেরকে নাকি উচ্চ পর্যায় থেকে বলেছে, আব্দুল কাদের মির্জা মুখ বন্ধ করতে হলে, তাঁর আশপাশে যারা আছে তাদেরকে যেকোনোভাবে হোক সরাতে হবে। আমার চতুর পাশ থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এটা কে করছে, একদিন প্রমাণ হবে। একদিন বেরিয়ে আসবে কে করছে। আজকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, প্রশাসনে যাঁরা আছেন, আজকে প্রশাসনের কয়েকজন ব্যক্তি মাসোহারা পায়। এখানে নানা অনিয়ম করে তারা টাকা উপার্জন করে, আজকে তারা এ জন্য মাতাল হয়ে গেছে। আব্দুল কাদের মির্জাকে সরাতে হবে কারণ আমি, অপরাজনীতি, চাকরি বাণিজ্যসহ প্রশাসনকে ব্যবহার করে যে অনিয়ম নোয়াখালী এবং ফেনীতে চলছে এর বিরুদ্ধে আমি কথা বলছি। এখানকার সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি কথা বলছি। সে জন্য আজকে আমাকে সরিয়ে দিতে চায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় বলব যত অস্ত্রবাজি করেন, যত চক্রান্ত করেন, আমাকে কোনো অবস্থায় সত্যবচন থেকে দূরে সরানো যাবে না। আমি সাহস করে সত্য কথা বলব। এটা কার পক্ষে যাচ্ছে, কার বিরুদ্ধে যাচ্ছে, আমি বলতে পারব না। আমি শুধু বলব, গোলাপ ভরা ফুলদানি ভেঙে ফেলতে পারেন, কিন্তু বাতাস থেকে কখনো গোলাপের গন্ধ মুছে ফেলতে পারবেন না।’

 



সাতদিনের সেরা