kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

দুই ভাইয়ের স্বীকারোক্তি

মুক্তিপণ না পেয়ে পানির ট্যাংকে ও নদীতে ফেলে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তিপণ না পেয়ে পানির ট্যাংকে ও নদীতে ফেলে হত্যা

প্রতীকী ছবি

মুক্তিপণের জন্যই ১৭ দিনের ব্যবধানে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকা থেকে দুই শিশুকে অপহরণ করেছিলেন আকবর ও তাঁর খালাতো ভাই আনোয়ার। কিন্তু বাবা গরিব, টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই জেনে এই দুই পাষণ্ড পানির ট্যাংকে ফেলে তিন বছরের নিহাদকে হত্যা করেন। আর গার্মেন্ট শ্রমিক বাবা মুক্তিপণের দাবি করা পাঁচ লাখ টাকা দিতে না পারায় বস্তায় ভরে বালু নদে ফেলে হত্যা করেন রুবাকে। গ্রেপ্তারের পর গত শনিবার রাতে পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন পাষণ্ড দুই ভাই।

আকবর হোসেন (২৪) শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের পুটিয়া এলাকার মৃত আলী জব্বারের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর হায়দরাবাদ এলাকার আবুল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তাঁর খালাতো ভাই আনোয়ার হোসেন (৩০) গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ খাইলকুর এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। তাঁরা দুজনই সংঘবদ্ধ অপহরণকারীচক্রের সদস্য বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

অপহরণের শিকার শিশুদের মধ্যে নিহাদের লাশ রাজধানীর শ্যামপুর থানার করিমুল্লাবাগ এলাকায় নাসির উদ্দিন নাসুর তিনতলা ভবনের পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপর শিশু রুবার লাশের সন্ধানে গাজীপুরে তুরাগের শাখা বালু নদে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইলতুিমশ জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল সোয়া ১১টার দিকে তিন বছরের শিশু নিহাদ অপহৃত হয়। শিশুটির মা-বাবা দুজনই পোশাক শ্রমিক। এ  ঘটনায় শিশুটির বাবা গার্মেন্ট শ্রমিক হানিফ আলী গাছা থানায় মামলা করেন। তিন দিন পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে নিহাদের লাশ উদ্ধার করে  পুলিশ।

অপর ঘটনায় গত ৯ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর পূর্ব কলমেশ্বর থেকে অপহৃত হয় সুমাইয়া আক্তার সুমু ওরফে রুবা নামের দুই বছর আট মাস বয়সী এক শিশু। অপহরণকারীরা রুবার বাবার কাছে মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এ ঘটনায়ও গাছা থানায় একটি মামলা হয়।

এদিকে পর পর দুটি অপহরণের ঘটনায় পুলিশ তৎপর হয়। গত ১৭ মার্চ প্রথমে গাজীপুরের হায়দরাবাদ থেকে আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার তাঁর খালাতো ভাই আনোয়ারকে নগরীর তারগাছ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাঁরা দুটি শিশুকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই শিশু দুটির জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়। শিশু দুটির পরিবারকে জামাকাপড় দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল বলেও ওই দুই পাষণ্ড স্বীকার করেন। 

গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, শিশু রুবার লাশের সন্ধান মেলেনি। লাশ উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ডুবুরি দিয়ে বালু নদে তল্লাশি চলছে।

 



সাতদিনের সেরা