kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

বাঁকুড়ার জনসভায় মোদি

পশ্চিমবঙ্গের স্বপ্ন নিয়ে দিদিকে খেলতে দেব না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পশ্চিমবঙ্গের স্বপ্ন নিয়ে দিদিকে খেলতে দেব না

ছবি: ইন্টারনেট

নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর গতকাল রবিবার ফের পশ্চিমবঙ্গে জনসভা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাঁকুড়ার তিলাবেদিয়ার এই জনসভায় বরাবরের মতোই তৃণমূল ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। মমতা রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অপমান করছেন উল্লেখ করে মোদি বলেছেন, তাঁকে আর জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা কেড়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

হুগলির তারকেশ্বরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের কালীতলা এলাকায় আঁকা ব্যঙ্গচিত্রের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ‘দিদির লোকেরা এমন ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করছে, যেখানে দেখানো হচ্ছে আমার মাথায় দিদি লাথি মারছেন এবং ফুটবল খেলছেন। দিদি, আপনি কেন বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অপমান করছেন? আপনি চাইলে আমার মাথায় পা রাখতে পারেন, আমাকে লাথি মারতে পারেন। কিন্তু বাংলার বিকাশকে আমি লাথি মারতে দেব না। বাংলার মানুষের স্বপ্নকে লাথি মারতে দেব না। গরিবদের লাথি মারতে দেব না। তিনি ভুলে যাচ্ছেন, আমি প্রতিদিন দেশের ১৩০ কোটি নাগরিকের কাছে মাথা নত করি।

এটাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সংস্কার।’ মমতা খুব ভালোভাবেই নিজের পরাজয়ের কথা জানেন উল্লেখ করে মোদি বলেন, এ জন্যই তিনি ইভিএমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাসহ নানা অজুহাত তৈরি করছেন। তিনি বলেন, ‘দিদিকে যতই প্রশ্ন করি, তিনি ততই খেপে যান। এখন তিনি বলছেন আমার চেহারা তাঁর পছন্দ না। দিদি, গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে চেহারা নয়, জনসেবার পরীক্ষা হয়।’

তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ স্লোগানের পাল্টা সুর তুলে মোদি বলেন, ‘১০ বছর ধরে বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলেও মন ভরল না। আপনার খেলার জন্য অজিত মুর্মুর মতো অনেক আদিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। খেলা শেষ হবে। বিকাশ শুরু হবে।’ কাটমানি প্রসঙ্গ তুলে এনে তিনি বলেন, ‘গরিব মানুষের টাকা সরকারের কাছে পৌঁছেনি। কিন্তু মালামাল হয়ে গেছেন তৃণমূল নেতারা।’ পাশাপাশি গতকালের সভায় তরুণ প্রজন্মের মন জয়ের চেষ্টা করেন মোদি। তাঁর কণ্ঠে শোনা যায় আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নও। মোদি বলেন, ‘যাঁরা প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন, তাঁদের বলছি—সোনার বাংলা গড়তে এগিয়ে আসুন।’

তিনি আরো বলেন, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার দ্রুত ইন্টারনেট কানেকশন দেবে। জলজীবন মিশন চালু করবে। আয়ুষ্মান ভারত যোজনাও পশ্চিমবঙ্গে চালু হবে। পাশাপাশি বাঁকুড়ার টেকাকোটাকা বিশ্ববাজারে তুলে দিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি। নতুন কৃষি আইন নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের মন পেতেও চেষ্টা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের কৃষকরা কিষান সম্মান যোজনার টাকা পাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। সূত্র : দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার পত্রিকা।