kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

চাহিদার চেয়ে বেশি পানি, তবু সংকট

গুরুত্ব বুঝে পানি ব্যবহার করতে হবে : ওয়াসার এমডি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাহিদার চেয়ে বেশি পানি, তবু সংকট

রাজধানীর প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য চাহিদার চেয়ে বেশি পানি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা রয়েছে ঢাকা ওয়াসার। তার পরও কিছু এলাকায় পানিরসংকট রয়ে গেছে। বর্তমানে দুইভাবে পানির জোগান দিচ্ছে ওয়াসা—একটি সারফেস ওয়াটার, অন্যটি ডিপ টিউবওয়েল বা আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার। বর্তমানে ৬৬ শতাংশ আন্ডারগ্রাউন্ড আর বাকি ৩৪ শতাংশ পানি দেওয়া হচ্ছে সারফেসের মাধ্যমে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য অন্তত ৭০ শতাংশ সারফেস এবং ৩০ শতাংশ আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার হতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। তবে উন্নয়নকাজ চলছে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, ৭০ শতাংশ সারফেস ওয়াটারের ব্যবস্থাপনার জন্য ওয়াসা কাজ করছে। বর্তমানে পদ্মা-যশোলদিয়া প্রকল্প পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক করা হয়ে গেলে অবস্থার পরিবর্তন হবে। পুরোটা ব্যবহার করা গেলে ৪৫ শতাংশ সারফেস ওয়াটার আর ৫৫ শতাংশ হয়ে যাবে আন্ডারগ্রাউন্ড। আর গন্ধবপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট পুরোপুরি ব্যবহার করা গেলে এই ব্যবধান ৬০ শতাংশ সারফেস আর ৪০ শতাংশ আন্ডারগ্রাউন্ড হয়ে যাবে। এরপর সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ফেজ থ্রিসহ অন্য কাজগুলো করা গেলে পৌঁছা যাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।

শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় বর্তমানে রাজধানীতে পানির চাহিদা বেড়েছে। শীতকালে ২১০ আর সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকে। ওয়াসার পানির সক্ষমতা প্রায় ২৭৫ কোটি লিটার। বর্তমানে সারফেস ওয়াটার হওয়ায় সবাইকে সেটাই দিতে চায় সংস্থাটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর আদাবর, লিংক রোড, মনসুরাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ কিছু এলাকায় পানিসংকট রয়েছে। সম্প্রতি আদাবর এলাকার বাসিন্দাদের পানি না পাওয়ার অভিযোগ বেশি। আদাবর দুই নম্বর রোডের বাসিন্দা গোলাম মোর্শেদ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে দিনের এক অংশে পানি থাকছে, অন্য সময় পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ওয়াসার লোকজনকে জানালে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি আসে। কিন্তু সব সময় তো জানানো যায় না।’

এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রয়োজনের চেয়ে আমাদের বেশি পানি আছে। মোহাম্মদপুরসহ কিছু এলাকায় পানির লেয়ারজনিত কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন সমস্যাপ্রবণ এলাকা প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছি। কিছু জোনে সামান্য সমস্যা হচ্ছে। জানতে পারলে আমরা অন্য জোনের গাড়ি দিয়ে পানি পাঠাচ্ছি। আসলে দুই ধরনের কারণে গ্রাহকদের কষ্ট পেতে হয়—একটি পাইপলাইন ভেঙে গেলে, আরেকটি ডিপ টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেলে। তখন আমরা আশপাশের এলাকায় পানি বন্ধ করে সমস্যাপ্রবণ এলাকায় পানি দিয়ে দিই।’

তাকসিম এ খান আরো বলেন, ‘সরবরাহ লাইনে ত্রুটি কিংবা পানির ট্যাংক নোংরা (বাড়িতে) থাকার কারণে পানির মান নিয়ে সমস্যা হয়। এ সমস্যা কাটাতে ঢাকা নগরকে ১৪৫টি ক্লাস্টারে (ডিস্ট্রিবিউশন মিটার এরিয়া বা ডিএমএ) ভাগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৬৪টি ডিএমএর কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ডিএমএর কাজ ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হবে। এরপর আর পানির মান নিয়ে সমস্যা থাকবে না। তবে মানুষকে পানির গুরুত্ব বুঝতে হবে। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। এলাকাভিত্তিক পানির দাম নির্ধারণ বিষয়েও পর্যালোচনা চলছে।’

পানির দাম নির্ধারণ নিয়ে ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ‘ওয়াসার প্রতি এক হাজার লিটারে খরচ হয় ২৫ টাকার মতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১৪ টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে—বস্তির মানুষ যে টাকা দিচ্ছে, অভিজাত এলাকার বাসিন্দারাও একই দাম দিচ্ছে। এটি একেবারেই অযৌক্তিক। তাই এলাকাভিত্তিক পানির দাম নির্ধারণ করা জরুরি।’