kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

শিশু ও বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রেপ্তার ১

শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




শিশু ও বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রেপ্তার ১

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি শিশুকে (৬) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার এক স্বজনের বিরুদ্ধে। রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ শিশুটিকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাদারীপুরের রাজৈরে এক বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাড়াশের নওগাঁ ইউনিয়নে মঙ্গলবার সকালের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের নাম নাঈম শেখ (১৯)। তাঁর বাড়ি ইউনিয়নের মহেষ রৌহালী গ্রামে। শিশুটির পরিবার জানায়, শিশুটিকে মালা কিনে দেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন নাঈম। এরপর তিনি পালিয়ে যান। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটি বর্তমানে অনেকটা শঙ্কামুক্ত। তার আরো চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। তাড়াশ থানার ওসি মো. ফজলে আশিক বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজৈরে ভুক্তভোগী নারী প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গত বুধবার গভীর রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মঞ্জুর মোল্লা (৪৫) রাজৈর উপজেলার উমারখালী গ্রামের সুন্দর আলী মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সদর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঞ্জুর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন এবং মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। ওই নারীর স্বামী খুন হওয়ার পর থেকে গ্রামের বাড়িতে থাকা শুরু করেন মঞ্জুর। এ সময় তিনি ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এতে তিনি (নারী) অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে মঞ্জুরের কাছে তিনি সন্তানের পিতৃপরিচয় দাবি করেন। এতে মঞ্জুর রাজি না হওয়ায় তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে মাদারীপুরে বাবার বাড়ি চলে যান এবং মঞ্জুরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এলাকাবাসীর ধারণা, এই দুজনের সম্পর্কের কারণে ভুক্তভোগীর স্বামী খুন হয়েছেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর সতিন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী জীবিত থাকতেই তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তারাও আমার স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমি মামলা করব।’

ধর্ষণ মামলার বাদী বলেন, ‘আমার সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য একটা সুষ্ঠু বিচার চাই।’

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে মঞ্জুর মোল্লা বলেছিলেন, ওই নারীর স্বামীর মৃত্যুর তিন মাস পর থেকে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে গর্ভের বাচ্চার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, মঞ্জুরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ওই নারীর স্বামী ২০২০ সালের ২২ জুন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। পরের দিন সকালে উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড় মল্লিককান্দির একটি জমি থেকে মোটরসাইকেলসহ তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে রাজৈর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় মঞ্জুর বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় উপজেলার শাখারপাড়ের দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) ও রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি]



সাতদিনের সেরা