kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে

ড. ফরহাদ আলী খান

১৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইডিশ-ব্রিটিশ ওষুধ কম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত করোনার টিকা ‘কোভিশিল্ড’ নিয়ে সম্প্রতি নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে সুইডেন থেকে টিকাটি নিয়ে কথা বলেছেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার রোগতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্যবিদ ড. ফরহাদ আলী খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক মারুফ

 

কালের কণ্ঠ : এই টিকা থেকে কারো শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ আছে কি না? না থাকলে যাঁরা টিকা নিয়েছেন তাঁদের কারো কারো টেস্ট রেজাল্ট পজিটিভ আসে কেন?

ড. ফরহাদ : না, এমন সুযোগ নেই। কারণ এটি তৈরি হয়েছে ডেড ভাইরাস বা এক ধরনের প্রোটিনের মাধ্যমে। যাঁরা টিকা নেওয়ার পরে পজিটিভ রেজাল্ট পাচ্ছেন, তাঁরা অন্য কোনোভাবে সংক্রমিত হয়েছেন।

 

কালের কণ্ঠ : এই টিকার কারণে রক্ত জমাট বাঁধার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে? না হলে কিছু দেশে এই টিকা স্থগিত করার কারণ কী?

ড. ফরহাদ : এখন অবধি এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত ৮ মার্চ একটি গবেষণার ফল ছিল প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে অনেক কম (ফুসফুসের ক্ষেত্রে ৮০৫-এর মধ্যে মাত্র ২২টি)। ওই রোগীদের আগে থেকেই অন্য কারণে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে এখনো গবেষণা চলছে। আর ইউরোপ যেহেতু রোগ ও চিকিৎসার বিষয়ে অনেক বেশি সেনসেটিভ, তাই হয়তো এখানকার কোনো কোনো দেশ বিষয়টি নিয়ে অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য টিকা স্থগিত করে থাকতে পারে। যদিও অনেকে আবার টিকার রাজনীতির প্রশ্নও তুলছে, কিন্তু সেটি আমি বলতে পারছি না।

 

কালের কণ্ঠ : পরিস্থিতি নিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সর্বশেষ ব্যাখ্যা কী?

ড. ফরহাদ : আজ-কালের মধ্যেই হয়তো আনুষ্ঠানিক কোনো স্টেটমেন্ট আসতে পারে। এরই মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে অনেকবার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একাধিকবার ব্যাখ্যাসহ বিবৃতি দিয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : প্রথম ডোজ নেওয়ার আট সপ্তাহের পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া কি ঠিক আছে?

ড. ফরহাদ : একদমই ঠিক আছে, আট থেকে ১২ সপ্তাহের পর ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

 

কালের কণ্ঠ : এই টিকা কি নতুন ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রেও সমান কাজ করবে?

ড. ফরহাদ : যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে এই টিকা কার্যকর। অন্যগুলোর বিষয়ে গবেষণা চলছে।

 

কালের কণ্ঠ : প্রথম ডোজের কত দিন পর থেকে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং দ্বিতীয় ডোজের কত দিন পর কতটা কার্যকর হয়?

ড. ফরহাদ : প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে টিকার কার্যকারিতা শুরু হয়। তবে তিন সপ্তাহ পর ভালো ফলা দেওয়া শুরু হয়। আর দ্বিতীয় ডোজের দুই সপ্তাহ পর সর্বোচ্চ ফল মিলবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, টিকা দেওয়ার পরেও কিন্তু মাস্ক পরাসহ অন্য সব স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : এই টিকা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশে কী বলবেন?

ড. ফরহাদ : কথা একটাই, সেটা হচ্ছে, সবাইকে নিঃসংকোচে টিকা নিতে হবে। কারণ এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস মোকাবেলার অন্যতম বড় অস্ত্র হচ্ছে টিকা। এত দিনে বিশ্বে যত কোটি টিকা (অ্যাস্ট্রাজেনেকা) দেওয়া হয়েছে, সেই তুলনায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একেবারেই নগণ্য। এই সাক্ষাৎকারে প্রতিফলিত মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে আমার নিজস্ব, আমার প্রতিষ্ঠানের নয়।

 

মন্তব্য