kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মির্জা ও বাদলের নামে দ্রুত বিচার আইনে মামলা

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মির্জা ও বাদলের নামে দ্রুত বিচার আইনে মামলা

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে এবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার) আদালতে পৃথক মামলা হয়েছে। বিচারক মামলা দুটি গ্রহণ করে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান বাদলের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নাশকতার মামলায় বাদলের পক্ষে তাঁর আইনজীবী আদালতে জামিন চাইলে তা নাকচ হয়ে যায়।

কাদের মির্জার নামে মামলা

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন খিজিরের স্ত্রী আরজুমান পারভীন। এতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া কাদের মির্জার ভাই শাহাদাত হোসেন, ছেলে মির্জা মাশরুর কাদের তাসিকসহ আরো ৯৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক সোয়েব উদ্দিন খান মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদলের বিরুদ্ধে মামলা মির্জার অনুসারীর : এদিকে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদলসহ তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। বিচারক সোয়েব উদ্দিন মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

এজাহারে বলা হয়, গত ৮ মার্চ বিকেলে রূপালী চত্বরে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা করোনার টিকা নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ সভা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ করে মেয়র মির্জাকে বের হয়ে যেতে বলে। এ সময় বাদী ইকবাল বাধা দিলে বাদল তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা টিপে ধরেন। সন্ত্রাসীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরের ছবি ও অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে নেতাকর্মীদের মারধর করে জখম, ককটেল, বোমার বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলি করে লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় ৯ মার্চ একটি অভিযোগ নিয়ে গেলে কোম্পানীগঞ্জ থানা মামলা নিতে বিলম্ব করে।

‘স্ত্রীর চাপে ওবায়দুল কাদের নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে’ : গতকাল দুপুরে ফেসবুক লাইভে কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আজকে যে তাণ্ডব আমার ওপর চলছে, আমার কর্মীদের ওপর চলছে; যে অস্ত্রবাজি আমার ওপর হচ্ছে, সেসব ঘটনা মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেবের সহধর্মিণী ইসরাতুন্নেসা কাদের পরিচালনা করছে। তার নেতৃত্বে সব কিছু হচ্ছে। সে-ই আজকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আমার বিরুদ্ধে এবং আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে এবং আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা বলেন, ‘আজকে মন্ত্রী (ওবায়দুল কাদের) তার স্ত্রীর চাপে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।...মন্ত্রীর স্ত্রী, সে তো এখন ক্ষমতাধর। খবর নেন মন্ত্রীর মন্ত্রণালয় কে চালায় এখন? এ মহিলার সাথে কারা কারা এখন যোগাযোগ করে?’

অস্ত্র-গুলি উদ্ধার : মেয়র আবদুল কাদের মির্জার এক সহযোগীর বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমাবার রাতে মাইন উদ্দিন কাঞ্চন ওরফে কসাই কাঞ্চনের বাড়ি থেকে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি জানান, কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ ও জেলা (ডিবি) পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে দেশি একটি এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। তবে অভিযানে অভিযুক্ত কাঞ্চনকে পাওয়া যায়নি।

 



সাতদিনের সেরা