kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৪৫ অভিযোগের তদন্তে ইউজিসি

রংপুর অফিস   

১৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৪৫ অভিযোগের তদন্তে ইউজিসি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির ৪৫টি অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তিন সদস্যের একটি তদন্তদল সরেজমিনে তদন্ত করতে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে।

গতকাল রবিবার দুপুর পৌনে ১২টায় ইউজিসির সদস্য ও তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দের নেতৃত্বে ইউজিসির সিনিয়র সহকারী সচিব জামাল উদ্দিন ও সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ আমিনুল ইসলাম ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছেন। পরে প্রশাসনিক ভবনের হলরুমে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, সব ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত হবে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য। এ নিয়ে মনে কোনো সংশয় না রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে ইউজিসির সিনিয়র সহকারী সচিব ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক পত্র গত ২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক বরাবর পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে এই পত্রের অনুলিপি দেওয়া হয় উপাচার্যের একান্ত সচিবকেও। এতে ১৪ মার্চ তদন্তকাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত অভিযোগের দালিলিক প্রমাণাদিসহ সাক্ষীদের উপস্থিত থাকার জন্য তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কমলেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত ২০১৯ সালে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠানো উপাচার্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ৪৫টি অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আচার্যের নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে জনবল নিয়োগ, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হয়েও অনুপস্থিত থাকা, ইচ্ছামতো পদোন্নতি, আইন লঙ্ঘন করে একাডেমিক প্রশাসনিক পদ দখল, ক্রয়প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন প্রভৃতি।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ১০ তলা ভবন ও একটি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজেও উপাচার্যের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসির আরেকটি তদন্ত কমিটি। এ জন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রদানকারী বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতির ৪৫টি অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর পেশ করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তদন্ত করতে ইউজিসির একটি দল ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছেছে। আমরা তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ প্রমাণের সব কাগজপত্র প্রদান করব।’

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ড. মতিউর রহমান বলেন, উপাচার্যের লাগামহীন দুর্নীতির স্পষ্টতা তুলে ধরে গত শনিবার ১১১টি অভিযোগের ৭৯০ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা