kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ নিয়ে ওয়েবিনারে বক্তারা

তিন যুগের উন্নয়নের দ্বিগুণের বেশি হয়েছে গত এক যুগে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন যুগের উন্নয়নের দ্বিগুণের বেশি হয়েছে গত এক যুগে

‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ : প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিশাল অর্জন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারী অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বাধীনতা-পরবর্তী তিন যুগে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি উন্নয়ন হয়েছে গত এক যুগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা তিন থেকে চার গুণ ছাড়িয়ে গেছে। গত এক যুগে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এর পেছনের অন্যতম কারণ হলো যোগ্য নেতৃত্ব।

রাজধানী ঢাকায় গতকাল শনিবার কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ : প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিশাল অর্জন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। আলোচক হিসেবে যুক্ত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রো-ভাইস চেয়ারপারসন ড. শেখ মামুন খালেদ।

ওয়েবিনারে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত দুই দশকে আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীর অঞ্চলের ১২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশ ২০১৮ সালের মার্চে প্রথম দফায় এলডিসি থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। সে জায়গা থেকে ২০২১ সালে আমরা বেশ এগিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। আর এই চ্যালেঞ্জগুলোকে আমাদের সুযোগ হিসেবে নিতে হবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। তবে আমি মনে করি, সে ক্ষেত্রে আমরা ভালো করব। কারণ এখন যখন আমরা ১২ থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে আমেরিকায় রেডিমেড গার্মেন্টের বাজার ধরে রেখেছি, আশা করছি গ্র্যাজুয়েশন হয়ে গেলেও আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ধরে রাখতে পারব।’

ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, বাংলাদেশের এই উন্নয়নের অংশীদার সবাই। আর এর পেছনের একটি অন্যতম কারণ হলো যোগ্য নেতৃত্ব। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর, বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভে ছিল না কোনো ডলার। সেই জায়গা থেকে ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যাওয়াটা বড় অর্জন। তবে এই অর্জন ধরে রাখতে হলে আমাদের জিএসপি প্লাস সুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। পাশাপাশি পলিটিক্যাল ইকোনমিক্যাল ডিপ্লোমেসির দিকে নজর দিতে হবে। এই সুবিধাগুলো নিয়ে আমাদের চীন-জাপানের বাজারে ঢুকতে হবে।’

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের এই অর্জন আমাদের উন্নয়নের একটি ধারাবাহিকতা। এর ফলে দেশের একটি ব্র্যান্ডিং হবে, আমাদের ক্রেডিং র্যাংকিং বাড়বে। তবে অভিঘাতও আসতে পারে। সেগুলো সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলা করতে হবে। আমরা যাতে মসৃণভাবে গ্র্যাজুয়েশন করতে পারি, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। আর সে জন্য আমাদের শ্রমদক্ষতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি আমাদের পণ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে।’

এ সময় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘আমরা যেমন উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যাচ্ছি, একই সঙ্গে ২০৪১ সালে যে ভিশন উন্নত দেশে পরিণত হওয়া, সেই পদক্ষেপগুলোও আমরা নিচ্ছি। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে আমাদের জিডিপির আকার দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। আমাদের পার ক্যাপিটা ইনকাম তিন গুণের বেশি। স্বাধীনতার পর থেকে গত ৩৮ বছরে দেশে যা উন্নয়ন হয়েছে, তার দ্বিগুণের বেশি উন্নয়ন হয়েছে গত এক যুগে।’

ওয়েবিনারে সভাপতির বক্তব্যে ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তা পূরণ হওয়ার পথে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মর্যাদাকে তিনি অন্য রকম স্থানে নিয়ে গেছেন। তিনি জাতির পিতার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘যে বাংলাদেশ একসময় পরিচিত ছিল বন্যাকবলিত, দারিদ্র্যপীড়িত দেশ হিসেবে, সেই দেশই এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল; অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময়। এটা শুধুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও জাদুকরী নেতৃত্বের কারণে। এই অর্জনের কাণ্ডারি শেখ হাসিনা। শুধু বাংলাদেশের মানুষের কাছে নয়, বিশ্বের কাছেই এখন তাঁর পরিচিতি—দারিদ্র্য দূরীকরণের জাদুকর।’