kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

কালের কণ্ঠ-কন্যা গোলটেবিল বৈঠক

নারীর স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নারীর স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি

গোলটেবিল : গতকাল ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনফারেন্স রুমে ‘নারী স্বাস্থ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মানুষ বড় হলে দেশ বড় হয়। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সচেতনতাই পারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে। বিশেষ করে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নারীর স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নারীর স্বাস্থ্য অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবার একসঙ্গে কাজ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায় থেকেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল শনিবার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনফারেন্স রুমে কালের কণ্ঠ এবং নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘কন্যা’ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব অভিমত তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীরা প্রতিদিন যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেটা সবার অজানা। নির্যাতনের বর্ণনা দিলে আপনারা শিউরে উঠবেন। এ জন্য আজ শুধু নারী স্বাস্থ্যের কথা বলব। নারী স্বাস্থ্য এখনো অবহেলিত রয়ে গেছে। অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছে সেবা থেকে, অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছে তথ্য থেকে। পরিবারেও অনেকে সংকোচে অনেক জরুরি কথা বলতে পারে না মুখ ফুটে। ফলে অনেক সমস্যাই চাপা পড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ বড় হলে দেশ বড় হয়। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সচেতনতাই পারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে। নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের আরো ভাবতে হবে, আরো কাজ করতে হবে, বাধাগুলো দূর করতে হবে।’

কালের কণ্ঠ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। সংবাদের পাশাপাশি নিয়মিত আমরা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম করছি। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এমন গোলটেবিল আলোচনা করছি। নারীদের অধিকার, নারীদের স্বাস্থ্যসেবাসহ নারীদের এগিয়ে চলার জন্য সচেতনতা বাড়াতে আমরা কন্যার উদ্যোগের সঙ্গেই থাকব।’

গোলটেবিলে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, ‘গার্মেন্টকর্মীরা করোনার মধ্যে হাত ধোয়া ও মাস্ক পরার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। তাঁদের সেবার জন্য মায়া ও বারডেমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করছি। ফলে টেলিমেডিসিন সেবাও পাওয়া যাচ্ছে। উদ্যোক্তারা এসব কাজে গার্মেন্টকর্মীদের সহায়তা করছেন। মানসম্মত কাজের জন্য কর্মীদের মানসিক দিকেও প্রশান্তি থাকা প্রয়োজন। কাজে হৃদয়ের স্পর্শ থাকা প্রয়োজন। এ জন্য গার্মেন্টে কর্মীদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

তিনি আরো বলেন, কর্মীদের উন্নয়নের জন্য জাগো ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। মাত্র ১৫-২০ হাজার টাকায় অনলাইন এডুকেশন দিচ্ছে তারা। প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে তাঁরা (গার্মেন্টকর্মীরা) অনেক কিছুই জানছেন। তবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবেও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। এ জন্য কর্মীদের মধ্যেও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার বাড়ানো দরকার।

কন্যার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও গোলটেবিলের সঞ্চালক কানিজ ফাতিমা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে চোখে পড়ছে না। সেখানে নারী স্বাস্থ্যের বিষয়টি অবহেলিত। নারী স্বাস্থ্য ও সচেতনতা বাড়াতে সমাজে যেসব ভূমিকা রাখা প্রয়োজন, সেটা নিয়ে কাজ করবে ‘কন্যা’। একটি মেয়ে স্বাস্থ্য নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে। এমনকি সচেতনতার অভাবও আছে। ‘কন্যা’ এই সচেতনতার জায়গাটা নিয়ে কাজ করবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের মেয়েরা সচেতন-সাহসী হচ্ছে। একা পথ চলতে শিখছে। প্রতিটা জায়গায় নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার লড়াইয়ে নেমেছে।’

চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহম্মেদ বলেন, ‘এখনো আমাদের দেশ কিছু বিষয়ে পিছিয়ে আছে। আমাদের দেশে নাটক-সিনেমাতে অনেক কিছু দেখানো হয় না। আমরা সচেতনভাবে এগুলো এড়িয়ে যাই, কিন্তু এসব জায়গা নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত। পাশের দেশে প্যাডম্যান-টয়লেট নামে সিনেমা হচ্ছে। সেখানে দেশে এসব নিয়ে কাজ করার সাহস আমরা করতে পারিনি। বিচ্ছিন্নভাবে অনেক কিছু হচ্ছে, একই প্ল্যাটফর্মে বিষয়টিকে আনার জন্য কন্যাকে ধন্যবাদ।’

এসএমই ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার ফারজানা খান বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আমরা অনেক কিছু করি। করোনাকালেও আমরা উদ্যোক্তাদের জন্য কাজ করেছি। বড়-ছোট-প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের নিয়ে আমরা কাজ করি। আমাদের দেশের নারীদের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। একজন নারীকে অনেক কিছু পেরিয়ে আসতে হয়। এ জন্য সামান্য বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ জন্যই নারীদের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।’

এ ছাড়া গোলটেবিল বৈঠকে আরো আলোচনা করেন তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সিদ্ধার্থ গোস্বামী, এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের ইনক্লুসিভ বিজনেস অ্যাডভাইজার জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের কোষাধ্যক্ষ সঙ্গিতা খান, বাণিজ্যিক উদ্যোক্তা তানিয়া ওয়াহাব, প্রাইম ব্যাংকের হেড অব সেগমেন্ট শায়েলা আবেদীন, আইইউসিএনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রকিবুল আমিন, লাইট হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, এএসডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামিল এইচ চৌধুরী, এবিসি আর্লি লার্নিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া আকরাম, গ্রিনলাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসাইন, বিআইইডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন আকবর, স্বর্ণ কিশোরীর দূত মোনামী মেহনাজ, স্কয়ার টয়লেট্রিজের ফজলে হাসান, কালের কণ্ঠের উপপ্রধান প্রতিবেদক তৌফিক মারুফ।



সাতদিনের সেরা