kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

ইউপি সদস্য খুন

হত্যার হুমকি দিয়ে নিজের বুকই ঝাঁঝরা

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হত্যার হুমকি দিয়ে নিজের বুকই ঝাঁঝরা

তিন দিন আগেই প্রতিপক্ষের এক নেতার হাত-পা ভাঙাসহ হত্যার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিলেন যশোরের অভয়নগরের ইউপি সদস্য নূর আলী (৫০)। প্রতিপক্ষ তাঁর চেয়ে ঢের ভয়ংকর। নূর আলী কেবল মুখেই হুমকি দিয়েছিলেন, প্রতিপক্ষ সেটা করে দেখাল। গুলি চালিয়ে সন্ত্রাসীরা বাবা-ছেলেকে একেবারে ঝাঁঝরা করে দিল। বাবা ঘটনাস্থলে মারা গেলেও জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে লড়ছেন ছেলে।

গত রবিবার রাত ৮টার দিকে নূর আলী ও তাঁর বড় ছেলে একটি অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। শুভরাড়া ইউনিয়নের শুভরাড়া গ্রামের বাবুরহাট নামক স্থানে পৌঁছতেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নূর আলী। তাঁর গুলিবিদ্ধ বড় ছেলে ইব্রাহিমের (১৬) অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নূর আলী শুভরাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

এদিকে নূর আলী হত্যার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। হত্যারহস্য উদঘাটনে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে কাজ করছে। গতকাল সোমবার ভোরে সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শুভরাড়া ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চরমপন্থী সংগঠন নছর বাহিনী ও তোরণ বাহিনীর মধ্যে বিবাদ চলছিল। নছর বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ইউপি সদস্য নূর আলী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ওয়ার্ডের এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, তিন দিন আগে শুভরাড়া ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজারে লাল্টুর কাপড়ের দোকানে তোরণ বাহিনীর এক নেতার সঙ্গে একটি বিষয় নিয়ে নূর আলীর বাগবিতণ্ডা হয়। ওই সময় নূর আলী প্রকাশ্যে ওই নেতার হাত-পা ভাঙাসহ হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এরই জের ধরে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো জানান, হত্যার পর রাতে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা ইউনিয়নজুড়ে অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের শেষ পর্যায়ে গতকাল ভোরে নাউলী গ্রামের গফ্ফার গাজীর ছেলে একাধিক মামলার আসামি সুলতান গাজী (৩৫) ও একই গ্রামের ইব্রাহিম মোল্যার ছেলে ইসমাইল মোল্যাকে (২৮) আটক করেছে।

যশোর ডিবি পুলিশের ওসি সোমেন দাস বলেন, ‘রাতে শুভরাড়া ইউনিয়নে গেলেও কাউকে আটক করা হয়নি। তবে অন্য কোনো সংস্থা আটক করেছে কি না তা আমি জানি না।’ 

নূর আলীর স্ত্রী তহমিনা খাতুন জানান, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর বড় ছেলে গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমার স্বামী অংশ নেওয়ার কথা ছিল না।

শুভরাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস জানান, নূর আলী ছিলেন দলের জন্য নিবেদিত। নির্মম এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

অভয়নগর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নূর আলীকে খুব কাছ থেকে মাথা ও বুকে গুলি করা হয়েছে। তাঁর ছেলের পায়ে ও শরীরে গুলি লেগেছে। হত্যারহস্য উদঘাটনে থানা পুলিশ, যশোর ডিবি, পিবিআই ও সিআইডি আলাদাভাবে কাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা হয়নি।’

 

মন্তব্য