kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

হ্যারি-মেগানের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার

বাঁচার ইচ্ছাই মরে গিয়েছিল রাজবধূর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাঁচার ইচ্ছাই মরে গিয়েছিল রাজবধূর

ব্রিটিশ রাজপরিবারের একজন হওয়া স্বপ্নই ছিল মেগান মার্কেলের, কিন্তু প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী হয়ে রাজবাড়িতে ঢুকতেই সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় তাঁর, চোখের সামনে হাজির হয় অন্য এক রাজবাড়ি। মেগান অল্পদিনেই বুঝতে পারেন, এই রাজবাড়ির বাতাসে তাঁর পক্ষে বুকভরে নিঃশ্বাস নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে মেগান ও তাঁর অনাগত সন্তানকে ঘিরে রাজবাড়ির আনাচকানাচে বর্ণবাদের যে চর্চা শুরু হয়েছিল, তাতে বাঁচার ইচ্ছাটাই মরতে বসেছিল মেগানের। আত্মহত্যার চিন্তাও করেছেন বহুবার, কিন্তু রাজবাড়ির ‘বর্ণবাদী বাতাস’ থেকে বেরোতে পেরে পেয়ে যান নতুন করে বাঁচার উপলক্ষ।

গত রবিবার এক সাক্ষাৎকারে রাজবধূ হিসেবে এমন অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল। দিয়েছেন রাজপরিবার সম্পর্কে অনেক বিস্ফোরক তথ্যও।

সিবিএস টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়া দুই ঘণ্টার এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় উপস্থাপক অরপা উইনফ্রে। সাক্ষাৎকারে মেগানের সঙ্গে তাঁর স্বামী প্রিন্স হ্যারিও ছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সিবিএসের কাছে সাক্ষাৎকারটি ৯০ লাখ ডলারে বিক্রি করেছেন উইনফ্রে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বেতাঙ্গ বাবা আর কৃষ্ণাঙ্গ মায়ের ঘরে জন্ম মেগানের। ২০১৮ সালে হ্যারিকে বিয়ে করেন জনপ্রিয় এই মার্কিন অভিনেত্রী। গত বছরের জানুয়ারিতে রাজপরিবার ছাড়ার ঘোষণা দেন হ্যারি-মেগান দম্পতি। তাঁদের ২২ মাস বয়সী ছেলের নাম আরচি। ‘অপরাহ উইথ মেগান অ্যান্ড হ্যারি : আ সিবিএস প্রাইমটাইম স্পেশাল’ শিরোনামের এই সাক্ষাৎকারে রাজপরিবার ছাড়ার কারণ হিসেবে মেগান বলেন, ‘আমার...আমার বেঁচে থাকার কোনো ইচ্ছাই আর ছিল না।’

গর্ভবতী থাকা অবস্থায় আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন কি না, উইনফ্রের এমন প্রশ্নের জবাবে মেগান বলেন, ‘অবশ্যই, এ ব্যাপারে আমার মধ্যে কোনো দ্বিধা ছিল না। ওই সময় মানসিকভাবে আমি ক্ষতবিক্ষত ছিলাম। এর পেছনে যুক্তিসংগত কারণও ছিল।’ এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য ব্রিটিশ গণমাধ্যমের অপপ্রচারও দায়ী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় একাধিকবার কেঁদে ফেলেন ৩৯ বছর বয়সী মেগান। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনাগত সন্তানের গায়ের রং কতটা কালো হবে, তা নিয়ে রাজপরিবারে নানা ধরনের আলোচনা চলত। এমন কথাও শুনতে পাই যে অনাগত সন্তানকে রাজ উপাধি কিংবা রাজনিরাপত্তা দেওয়া হবে না। এসব বিষয় আমি হ্যারির কাছ থেকেই শুনেছি।’

১৯৯৫ সালে একই ধরনের এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অনেক ‘না বলা কথা’ সামনে এনেছিলেন হ্যারির মা প্রিন্সেস ডায়না। এরপর ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো সদস্যের এটাই সবচেয়ে বড় সাক্ষাৎকার, যেখানে হ্যারির কণ্ঠেও উঠে আসে রাজপরিবারের অনেক বিভাজনের কথা। তিনি বলেন, ‘মতবিরোধের কারণেই আমি রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি।’ নিজের মায়ের মৃত্যুর ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে হ্যারি বলেন, ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার ভয়ও ছিল আমার মধ্যে।’

নিজের দাদি ও রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে বিরোধ নেই উল্লেখ করে হ্যারি বলেন, ‘সার্বিক বিষয়ে দাদির সঙ্গে আমার তিন দফা কথা হয়েছিল, কিন্তু বাবা আমার ফোন ধরাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে তিনি আমাকে বলেছিলেন, আমি যেন তাঁকে লিখিতভাবে আমার সমস্যার কথা জানাই।’

হ্যারি-মেগানের এই সাক্ষাৎকার নিয়ে এরই মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, হ্যারি-মেগান ব্রিটিশ রাজপরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। কারো কারো মতে, একবিংশ শতাব্দীতে এসেও ব্রিটিশ রাজপরিবার যে বর্ণবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি, এই সাক্ষাৎকারে সেটিই স্পষ্ট হয়েছে।

সাক্ষাৎকারটি গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন চ্যানেল ‘আইটিভি’তে প্রচারিত হওয়ার কথা। এই চ্যানেলের সম্পাদক ক্রিস শিপ বলেন, ‘ব্রিটিশ রাজপরিবারকে এখন অন্তত দুটি অভিযোগের ব্যাপারে উত্তর দিতে হবে। প্রথমটি হলো, বর্ণবাদের অভিযোগ। আর দ্বিতীয়তটি হলো, মেগান আত্মহত্যার চিন্তা করার পরও রাজপরিবারের কোনো সদস্য তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি।’ সূত্র : এএফপি।

 

 

মন্তব্য