kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

৭ই মার্চের আলোচনায় মির্জা ফখরুল

পরিকল্পিতভাবে ভ্রান্ত ইতিহাস জানাচ্ছে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরিকল্পিতভাবে ভ্রান্ত ইতিহাস জানাচ্ছে আওয়ামী লীগ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক চিন্তা-ভাবনা আর মানুষকে অভাবী করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এ দেশের মানুষ। ছাত্ররা সবই করে গেছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এভাবে প্রতিটি সময় ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ-যুবকরা দেশের স্বাধীনতা আনার জন্য, তাদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করেছে; রক্ত দিয়েছে। আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাস থেকে বঞ্চিত করে ভ্রান্ত ইতিহাস দিচ্ছে। তারা বলছে, দেশের স্বাধীনতা, উন্নয়ন, মানুষের অধিকারগুলো এনে দিয়েছে একটিমাত্র দল, একজন মাত্র ব্যক্তি আর একটি গোষ্ঠী।

গতকাল রবিবার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই আয়োজনের ব্যানারে লেখা ছিল—৭ই মার্চ উপলক্ষে আলোচনাসভা। ব্যানারের একদিকে ওই সময় উত্তোলিত মানচিত্রসংবলিত লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা এবং অন্যদিকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানে ছবি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সত্যটা তুলে ধরতে চাই—এ দেশের স্বাধীনতার জন্য কখন কবে থেকে কারা কারা প্রাণ দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে, সংগঠিত করেছে, সংগ্রাম করেছে। দেখবেন আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যেই কোথাও তোফায়েল আহমেদের কথা, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাম খুঁজে পাবেন না। এমনকি যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী, প্রবাসী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া তাজউদ্দীন আহমদের নাম তাঁরা একবারও উচ্চারণ করে না। ১৯৭১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের একমাত্র স্লোগান—এক নেতা এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। এখনো তারা একই কাজ করে চলেছে।’

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জনগণের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে আমরা আলোচনা অনুষ্ঠান করছি। লন্ডন থেকে আমরা ছাত্ররা বাংলাদেশের সংগ্রামী ছাত্রসমাজ নাম দিয়ে একটি সংগঠন করেছিলাম; যার আহ্বায়ক ছিলাম আমি। লন্ডনে পিকারস কর্নারে সমাবেশ ডেকেছিলাম, স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন ও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমরা সুবর্ণ জয়ন্তীর একটি দিন হিসেবে ৭ই মার্চ পালন করছি।’

ড. মোশাররফ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যতবার জাতির উদ্দেশে এবং জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন ততবারই স্বাধীনতার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের জন্য যাঁরা অবদান রেখেছেন তাঁদের স্মরণ করতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম স্মরণ করেছেন; তেমনিভাবে খালেদা জিয়াও। জনাব শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ বলেছেন, জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। ওই সময় সেটাই তাঁর বক্তব্য হওয়া উচিত ছিল। ক্ষমতাসীনরা আজ সংগ্রাম ও যুদ্ধকে গুলিয়ে ফেলছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কী আছে ৭ই মার্চের ভাষণে? ৫০ বছরের ইতিহাসে ছোট একটা অংশ এই ৭ই মার্চ। ৭ই মার্চের ভাষণটা যখন হয়, এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চের বাঁ দিকে বাঁশের ব্যারিকেডের সামনে উপস্থিত ছিলাম। বাঁশ, লাঠি নিয়ে গেছি—একটা ঘোষণা আসবে। কিন্তু না, বরং ওই পাকিস্তানি কাঠামোর ভেতরে থেকেই কিভাবে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন সেই জিনিসটা শেখ মুজিবুর রহমান করেছেন। যদি কেউ বলেন যে, কোনো এক মেজরের ঘোষণায় এ দেশ স্বাধীন হয়নি; তাহলে আমরাও বলতে পারি, ৭ই মার্চের কারণে দেশ স্বাধীন হয়নি।’ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চ উনি ভাষণ দিলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা এলো না। পরদিন তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেরেব স্বাক্ষরে আওয়ামী লীগ থেকে পাঠানো প্রেসনোটে বলা হলো, বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ক্ষমতায় আসার জন্য এই ভাষণ দেয়া হয়েছে। তাহলে সেটা স্বাধীনতার ঘোষণা হলো কী করে? তাই বলতে চাই, স্বাধীনতার ঘোষণা ও ৭ মার্চের ভাষণ এক জিনিস নয়। জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান বক্তব্য দেন।

 

 

মন্তব্য