kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

মোকাব্বিরের পক্ষ নিলেন ড. কামাল

চান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল
মন্টুর অংশ দল থেকে বেরিয়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মোকাব্বিরের পক্ষ নিলেন ড. কামাল

ফাইল ছবি

গণফোরামের বিবদমান দুই অংশের মধ্যে সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান সমর্থক বলে পরিচিত একাংশের পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছেন দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এই অংশের নেতা অ্যাডভোকেট শফিকউল্লাহকে তিনি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন। আর মোস্তফা মহসীন মন্টু সমর্থক অন্য অংশকে তিনি ‘দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া’ বলে উল্লেখ করেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে এই অবস্থান জানানোর পাশাপাশি বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে ড. কামাল বলেছেন, ‘আমরা সংশোধন নয়, আইনটি বাদ দেওয়ার পক্ষে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাকস্বাধীনতা, চিন্তা করার স্বাধীনতাকে যেভাবে আঘাত দেওয়া হচ্ছে, সেখান থেকে আমাদের সমাজকে পুরোপুরি মুক্ত করা দরকার।’ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের কথা চিন্তা করছেন বলে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রায় এক বছর পর বাসার বাইরে এসে এই প্রথম সংবাদ সম্মেলন করলেন ড. কামাল। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণফোরাম থেকে কিছু লোক বেরিয়েছেন, বেরিয়ে গিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। তাঁরা বেরোতেই পারেন। বাধ্য করে কাউকে তো রাখা যায় না।’ ড. কামালের এই সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই মন্টু সমর্থিত অংশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। যুব গণফোরামের ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদদের নেতৃত্বে একটি অংশ লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যু ও কার্টুনিস্ট কিশোরের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে। এই সমাবেশে জগলুল হায়দার আফ্রিক, লতিফুল বারী হামিম, যুব ফোরামের নেতা নাসির হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন-উত্তর পর্বের আগে লিখিত বক্তব্য দেন ড. কামাল হোসেন। তবে তাঁর ওই বক্তব্য পাঠ করেন সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। সংবাদ সম্মেলনে আ ও ম শফিকউল্লাহ, মোশতাক আহমেদ, জানে আলম, সুরাইয়া বেগম ও সেলিম আকবার উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এই ছয় নেতাসহ আরো কয়েকজন নেতাকে নিয়ে মতিঝিলের নিজ চেম্বারে বৈঠক করেন ড. কামাল।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, আজ যারা নিজেদের নির্বাচিত দাবি করে দেশ শাসন করছে, তাদের প্রতি জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন নেই। জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার অপকৌশল হিসেবে বিভিন্ন কালাকানুন জারি করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তারই অংশ।

দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘৩০ লাখ শহীদের রক্তে ও দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আজ নতজানু নীতি গ্রহণ করেছে। আজ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিবর্তে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের স্বর্গ রাজ্য গড়ে উঠেছে। জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। সামনে অগ্রসর হওয়া ছাড়া জনগণের আর কোনো বিকল্প নাই। এই রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য ‘দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত অশুভ সিন্ডিকেট’ দায়ী বলে মন্তব্য করেন ড. কামাল।

গণফোরাম সভাপতি জানান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে গণফোরাম জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে আগামী রমজান মাসে সারা দেশে গণসংযোগ শুরু করবে।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া পদত্যাগের পর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে কে আছেন এই প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘এখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিকউল্লাহ। উনি খুব পরিচিত লোক।’

গণফোরামের অন্য একটি অংশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পৃথক কর্মসূচি করছে, তারা কি গণফোরামের অংশ কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গণফোরাম থেকে কিছু লোক বেরিয়েছেন, বেরিয়ে গিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। তারা বেরুতেই পারেন। বাধ্য করে কাউকে তো রাখা যায় না। ওদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন আপনারা কেন বেরিয়ে গেছেন। আমরা যাঁরা গণফোরাম করে যাচ্ছি, আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের ঐক্যের ওপর ভরসা করে মাঠে আছি। আমরা চাচ্ছি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা বাধ্য হয় যেসব অনুচিত কাজ করছে সেটা থেকে সরে দাঁড়ায়।’

মন্তব্য