kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ফেনীতে ভবনে বিস্ফোরণ গ্যাস লিকেজ থেকে!

ছয়টি ফ্ল্যাট তছনছ দগ্ধ মা ও দুই মেয়ে হাসপাতালে

ফেনী প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেনীতে ভবনে বিস্ফোরণ গ্যাস লিকেজ থেকে!

ফেনীতে একটি ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিনটি ফ্ল্যাট তছনছ হয়ে গেছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো তিনটি ফ্ল্যাট। আগুনে দগ্ধ হয়েছেন তিনজন। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কয়েক লাখ টাকার সামগ্রী।

শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের পাশে হাজী দুলা মিয়া সড়কের শফিক ম্যানশনের পঞ্চম তলায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গ্যাস লিকেজ থেকে এই ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন ভাড়াটে প্রবাসী মাহফুজের স্ত্রী মেহেরুন্নেসা লিপি (৪০), তাঁর মেয়ে ফারহা ইসলাম মরিয়ম (১৭) ও হাফসা ইসলাম (১৪)। রাতে ভবনের বাসিন্দারা তাঁদের প্রথমে ফেনী ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে স্বজনরা তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এনে ভর্তি করেন।

প্রতিবেশী শরিফ উল হাসান তারেক সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিকট শব্দে আমরা সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। দেখি শফিক ম্যানশনের পঞ্চম তলার ভাড়াটে মাহফুজুর রহমানের বাসায় আগুন জ্বলছে। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ওই বাসা থেকে কাচের টুকরা আশপাশের বাসার ছাদে ছড়িয়ে পড়ে।’

ভবনের বাসিন্দারা জানান, আবুধাবিপ্রবাসী মাহফুজুর রহমানের বাসার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে বিকট বিস্ফোরণে প্রথমে ওই বাসার একটি শয়নকক্ষে আগুন ধরে সব আসবাব পুড়ে যায়। একই সময় একই তলার আরো দুটি ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা উড়ে যায়, বেসিনগুলো ভেঙে যায়, ফ্রিজের ক্ষতি হয়। চারতলার তিনটি ফ্ল্যাটের দরজা উড়ে যায় ও ভেতরে মালপত্রের ক্ষতি হয়। সিঁড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে জিনিসপত্রের পোড়া অংশ। ছাদের পানির ট্যাংকিতেও ফাটলের সৃষ্টি হয়। তবে ভাড়াটে মাহফুজের পরিবারের তিন সদস্য ছাড়া এ ঘটনায় আর কেউ হতাহত হননি।

গতকাল শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম তলার মাহফুজের বাসাসহ একই তলার তিনটি বাসা যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মাহফুজের বাসার চারটি দরজা ছাড়াও বারান্দার গ্রিল খুলে বাইরে ছিটকে যায় ও বারান্দার দেয়াল ফেটে যায়। দুটি কক্ষের আসবাব পুড়ে যায়।

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুত্সুদ্দী সাংবাদিকদের বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করি।’ এ ঘটনায় সাত-আট লাখ টাকার মালপত্রের ক্ষতি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তাঁরা।

গতকাল দুপুরে রাজধানী থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের চার সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরণের উৎপত্তিস্থলসহ কয়েকটি বাসা পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁরা কিছু পুড়ে যাওয়া বস্তু সংগ্রহ করেন। একই সময় ফেনীর পুলিশ সুপার মো. নুরুন্নবীসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, র‌্যাব কর্মকর্তা, গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা দফায় দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রবাসী মাহফুজের বাবা মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত। এটা কিভাবে ঘটল তা কিছুতেই বুঝতে পারছি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার বউমা ও নাতনিদের অবস্থা ভালো নয়।’

ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ করেন আবুল কাশেম। তিনি জানান, ভবন মালিক শফিকুর রহমান রাজধানীতে থাকেন। গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ তিনি ফেনীর বাসায় আসার কথা রয়েছে।

মাহফুজের ভাই সাইদুল ইসলাম তাঁর ভাবি ও ভাতিজিদের নিয়ে ঢাকায় হাসপাতালে রয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, লিপি ও তাঁর ছোট মেয়ে হাফসার অস্ত্রোপচার হয়েছে। আরেক মেয়ে মরিয়মের হাত পুড়েছে। সে কিছুটা ভালো আছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে সাইদুল বলেন, তাঁর ভাবি লিপি ও ভাতিজি হাফসার দেহের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন : গতকাল বিকেলে নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার নুরুন্নবী। তিনি বলেন, রাজধানী থেকে আগত বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞ দলসহ স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের তদন্তে প্রাথমিকভাবে এটা প্রতীয়মান হয়েছে যে গ্যাসলাইনের কোনো লিকেজ থেকে বেরিয়ে আসা ও জমে থাকা গ্যাসের চাপে এই বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে একাধিক সংস্থা আরো বিস্তারিত তদন্ত করছে।

মন্তব্য