kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

গণতন্ত্রের স্বাদ ফিরে পেতেই জীবন বাজি

মিয়ানমারে বিক্ষোভ অব্যাহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গণতন্ত্রের স্বাদ ফিরে পেতেই জীবন বাজি

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বয়স এক মাস পেরিয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে রাজপথে প্রাণ গেছে অন্তত ৬০ জনের, কিন্তু গণতন্ত্রকামীদের উদ্দেশ্য এখনো সফল হয়নি। অন্যদিকে বিক্ষোভ থামানোর যে উদ্দেশ্য নিয়ে জান্তা সরকার রাজপথে গুলি চালিয়ে যাচ্ছে, তা-ও এখন পর্যন্ত ব্যর্থ। এ অবস্থায় মৌলিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, শেষমেশ কোন পক্ষ জয়ী হবে। বেশির ভাগ বিশ্লেষক মনে করেন, এই লড়াইয়ে এককভাবে কোনো পক্ষের জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ, বরং একটা সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের মানুষ টানা পাঁচ দশকের বেশি সময় সামরিক শাসনের জাঁতাকলে ছিল। তারা আর কোনোভাবেই সামরিক শাসন মেনে নেবে না। এ ছাড়া সেখানকার জনগণ গত পাঁচ বছরে গণতন্ত্রের ন্যূনতম স্বাদ হলেও পেয়েছে। ফলে গণতান্ত্রিক ও সামরিক সরকারের পার্থক্য তাদের কাছে এখন কিছুটা হলেও পরিষ্কার। আবার মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামীরা এটাও বুঝে গেছে যে শুধু মুখের কথাই যথেষ্ট নয়, জান্তা সরকারকে হটাতে হলে রাজপথে আন্দোলনের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে জীবনবাজিও ধরতে হবে তাদের।

জান্তা সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপও রয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও প্রতিনিয়ত জান্তা সরকারের সমালোচনা করে আসছে, কিন্তু রাজপথে আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জান্তা সরকারের সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এ ক্ষেত্রে তাঁদের যুক্তি হলো, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কাছে নিষেধাজ্ঞা নতুন কোনো বিষয় নয়। এ ছাড়া এবারের নিষেধাজ্ঞাকে তুলনামূলক দুর্বল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এর আগের জান্তা সরকারের সময় মিয়ানমারের অর্থনীতিকে নিশানা বানিয়ে বিভিন্ন দেশ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। আর এবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা জান্তা সরকারকে খুব একটা ভাবাচ্ছে না। আবার মিয়ানমার ইস্যুতে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়া প্রচ্ছন্নভাবে জান্তা সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

এই অবস্থায় রাজপথের আন্দোলন ও ‘মৃদু’ কূটনীতিক চাপে জান্তা সরকারকে বড়জোর আলোচনার টেবিলে বসানো যেতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের পূর্ব এশিয়া বিষয়ক কর্মসূচির সহকারী পরিচালক ইয়ুন সান বলেন, ‘অভ্যুত্থানের ইতি ঘটার কোনো সম্ভাবনা আমি দেখি না। সর্বোচ্চ যেটা আশা করতে পারি সেটা হলো, দুই পক্ষের মধ্যে একটা রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।’

মিয়ানমারের সাংবাদিক জেয়া থু জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে বলেন, জান্তা সরকারকে কাবু করার ক্ষেত্রে শুধু পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক চাপই যথেষ্ট নয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

বিক্ষোভ অব্যাহত

গত বুধবার ‘সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন’ পার করে আসা বিক্ষোভকারীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। গতকালও কয়েকটি শহরের রাজপথে বিক্ষোভ করেছে তারা। অন্যদিকে বিক্ষোভ দমাতে গতকালও তাজা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। আগের দিন বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ এবং সেনাদের গুলিতে ৩৮ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল জাতিসংঘ।

মং সংখ নামের এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমরা জানি, যেকোনো সময় গুলিতে আমাদের প্রাণ যেতে পারে, কিন্তু সামরিক সরকারের অধীনে বেঁচে থাকার মানে হয় না। আমরা যেভাবে পারি, জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’

এদিকে মিয়ানমারের তিন পুলিশ সদস্যের ভারতে আশ্রয় নেওয়ার খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ভারতের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, গতকাল মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে ওই তিনজন ভারতে প্রবেশ করেন। ওই তিন পুলিশ কর্মকর্তা ভারতে আশ্রয়ের আবেদন জানিয়ে বলেছেন, জান্তা সরকারের অধীনে তাঁরা দায়িত্ব পালন করতে চান না। এ কারণে তাঁরা দেশ ছেড়েছেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।

মন্তব্য