kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

মিয়ানমারে অভ্যুত্থান

জান্তা সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টায় আসিয়ান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জান্তা সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টায় আসিয়ান

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর জান্তা সরকারের দমন-পীড়ন অব্যাহত আছে। গতকালও বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে। এদিকে দমন-পীড়ন বন্ধে জান্তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে এশিয়ার ১০টি দেশের জোট—আসিয়ান।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গতকালের বিক্ষোভে পুলিশ সবচেয়ে বেশি মারমুখী ছিল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কালে শহরে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায় পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘সকালে বিক্ষোভের শুরুতেই চড়াও হয় পুলিশ। প্রথমে তারা টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এরপর বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় অন্তত ২০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একজনের পেটে গুলি লেগেছে; আরেকজনের লেগেছে বুকে।

গতকাল বিক্ষোভ হয়েছে বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনেও। সেখানকার সা চাউং এলাকার রাজপথে জড়ো হয়েছিল কয়েক হাজার মানুষ। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে পুলিশ। এ ছাড়া সোমবার রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় মায়িক শহর থেকে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কাউং মিয়াত লায়িং নামের ওই সাংবাদিক ‘ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা’র (ডিভিবি) প্রতিবেদক। নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ডিভিবি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উয়িন মিন্টসহ ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির’ (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। তারা অবিলম্বে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে নেমেছে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের দমাতে ধরপাকড় কিংবা ইন্টারনেট বন্ধ করা থেকে শুরু করে গুলি চালানোর মতো কঠোর পদক্ষেপও নিচ্ছে জান্তা সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত ২২ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

এদিকে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে বসেন আসিয়ানভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা। সেখানে মিয়ানমার ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে আসিয়ান নেতারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বৈঠকের আগে একাধিক কূটনীতিক আভাস দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের ব্যাপারে তাঁরা জান্তা সরকারকে চাপ দেবেন।

আসিয়ানের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য সদস্যরা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। ফলে এই বৈঠক থেকে কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া এই জোটে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া কিংবা লাওসের মতো যেসব দেশ আছে, তারাও চাইবে না মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। কারণ তাদের পরিস্থিতিও অনেকটা মিয়ানমারের মতো।

আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ধরা হয় সিঙ্গাপুরকে। এ ছাড়া মিয়ানমারে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারীও তারা। গত সোমবার সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবান কালাকৃষ্ণান বলেন, ‘মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর যেভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত। আমরা এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

আয়তনের দিক থেকে আসিয়ানের সবচেয়ে বড় সদস্য ইন্দোনেশিয়া। বৈঠক শুরুর আগে দেশটির এক কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা সামরিক বাহিনীকে আহ্বান জানাব, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের পাশাপাশি তারা যেন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে এনএলডিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে।’ সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য