kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

মুখোমুখি

এখন অনিয়মের মডেল স্থানীয় নির্বাচন

মাহবুব তালুকদার বললেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এখন অনিয়মের মডেল স্থানীয় নির্বাচন

স্থানীয় নির্বাচনে হানাহানি, মারামারি, কেন্দ্র দখল, ইভিএম ভাঙচুর ইত্যাদি মিলে এখন অনিয়মের একটা মডেল তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, “স্থানীয় নির্বাচনগুলোর গতি-প্রকৃতি দেখে আমার মনে হচ্ছে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনের যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ও ভারসাম্য রক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা হচ্ছে না।”

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় মাহবুব তালুকদার তাঁর লিখিত বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি নির্বাচন কমিশনের আর প্রয়োজন হবে কি না সে প্রশ্নও তোলেন। নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সংস্কার না হলে এখন যে ধরনের নির্বাচন হচ্ছে, তার মান আরো নিম্নগামী এবং নৈরাশ্য থেকে নৈরাজ্য সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও ব্যক্ত করেন তিনি। 

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এ কথা ধ্রুব সত্য যে নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রে উত্তরণের একমাত্র পথ। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশীদারমূলক ও গ্রহণযোগ্য না হলে ক্ষমতার হস্তান্তর স্বাভাবিক হতে পারে না। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষা রূপদানের জন্য নির্বাচন কমিশনের ওপর সাংবিধানিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারলে আমরা গণতন্ত্র অস্তাচলে পাঠানোর দায়ে অভিযুক্ত হব।’

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘বর্তমানে আমরা দেশব্যাপী পৌরসভা নির্বাচনের প্রায় শেষ পর্যায়ে আছি। আগামী এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে। স্থানীয় নির্বাচনগুলোর গতি-প্রকৃতি দেখে আমার ধারণা হচ্ছে, এক কেন্দ্রীয় নির্বাচনে স্থানীয় নির্বাচনের তেমন গুরুত্ব নেই। নির্বাচনে মনোনয়ন লাভই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে চমক সৃষ্টিকারী পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে চট্টগ্রামের রাউজানে। এখানে মেয়র ও ১২ জন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে উপজেলা নির্বাচনেও ঠিক এভাবে রাউজানে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সারা দেশে যদি এই মডেলে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি হতে পারেন, তাহলে নির্বাচনে অনেক আর্থিক সাশ্রয় হয় এবং সহিংসতা ও হানাহানি থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এতে নির্বাচন কমিশনের দায়দায়িত্ব তেমন থাকবে না। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের আর প্রয়োজন হবে কি না, সেটা এক বড় প্রশ্ন।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগেও যেসব নির্বাচন হয়েছে সেগুলোতে অসংগতির ঘটনায় সরব হওয়া মাহবুব তালুকদার নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সংস্কার না হলে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট সব মহলের ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।’

একসময় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়ার বিরোধিতা করলেও এখন তার পক্ষে বলে জানান মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘প্রধানত দুটি কারণে আমি ইভিএমে ভোট গ্রহণে আগ্রহী। প্রথমত, ইভিএমে ভোট হলে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ সম্ভব হয় না। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন কেন্দ্রে শতভাগ ভোট কাস্ট হওয়ার বিড়ম্বনা থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি।’

জাতীয় সংসদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএমে ভোট পড়ার হার বিশ্লেষণ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহার করে আমরা সর্বত্র ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, কেন্দ্র দখল ইত্যাদি অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়েছি এমন দাবি আমি করি না। ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নিরসন করার উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। নির্বাচনবিষয়ক অনিয়ম ও অভিযোগ যথাযথভাবে আমলে না নেওয়ায় আমরা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারি।’

 

মন্তব্য