kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

লালদিয়া চর এখন চট্টগ্রাম বন্দরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লালদিয়া চর এখন চট্টগ্রাম বন্দরের

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া চরে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সব প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গতকাল অভিযান শুরুর আগেই নিজেদের উদ্যোগে মালপত্র সরিয়ে নেয় সেখানকার বাসিন্দারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কোনো বাধা ছাড়াই অবশেষে লালদিয়া চর চট্টগ্রাম বন্দরের দখলে এসেছে। অভিযান শুরুর দুই দিন আগেও মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন করে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ করে আসছিল আন্দোলনকারীরা। বিষয়টি মাথায় রেখে পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার নিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি ছিল বন্দরের। বুলডোজার, ট্রাক প্রস্তুত ছিল; সম্ভাব্য ঝামেলা এড়াতে বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে যান চলাচল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের বাধা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

পতেঙ্গা এলাকার বোট ক্লাবের পাশে কর্ণফুলী নদীর পার ঘেঁষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ৫২ একর জমির প্রায় পুরোটাই লালদিয়া চর হিসেবে পরিচিত। এই চরেই বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য ওঠানামার টার্মিনাল করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে না পেরে বছরের পর বছর অপেক্ষা শেষে শেষ পর্যন্ত ওই প্রকল্প থেকে সরে আসে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন ওই লালদিয়া চরে নির্মিতব্য টার্মিনালে কনটেইনার রাখার স্থান হিসেবে কাজে লাগাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘আমাদের পুরো প্রস্তুতি ছিল অভিযান চালানোর, কিন্তু লালদিয়াবাসী নিজেদের উদ্যোগেই শান্তিপূর্ণভাবে চলে গেছে। একটি ঢিল পর্যন্ত ছোড়েনি। এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ লোক চলে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ৫২ একর জমিতে বেড়া দিয়ে দিচ্ছি। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী দেয়াল দেওয়া হবে। আর নিরাপত্তার দায়িত্ব নিশ্চিত করবে আনসার বাহিনী।’

দুপুরের মধ্যে স্থানীয় লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার পর বিকেল থেকে বুলডোজার দিয়ে ভবন ভাঙা শুরু করা হয়। আর চারদিকে ঘেরা দেওয়ার কাজ চলছিল। বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট এই কাজটি তদারকি করছিলেন।

লালদিয়ার চর পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলমগীর হাসান বলেন, ‘লালদিয়ার চরের অনেক লোক শনি ও রবিবার এলাকা ছাড়ে। এই উচ্ছেদ নিয়ে আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তাতে মনে হলো আমরা বাংলাদেশের নাগরিকই নই।’

জানা গেছে, লালদিয়া চরটি বছরের পর বছর চট্টগ্রাম বন্দরের হাতছাড়া ছিল। লালদিয়া চরের পাশে বিশাল একটি এলাকা অবৈধ উচ্ছেদের পর বন্দর থেকে সেটি লিজ দেওয়া হয় ইনকনট্রেড নামের প্রতিষ্ঠানকে। এর পাশেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কর্ণফুলী নদীর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতে রিট করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রায়ে অবৈধ সব স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিলে বিভিন্ন জটিলতায় সেটি পিছিয়ে যায়। আগামী ৯ মার্চের মধ্যে অবৈধ দখল উচ্ছেদ শেষ করে উচ্চ আদালতকে জানানোর নির্দেশনাও ছিল।

সেই নির্দেশনার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে লালদিয়ার চরে ভাড়া দিয়ে যারা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছে সেই স্বার্থান্বেষীদের তালিকা করা হয়েছে। গুটিকয়েক মানুষের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম নষ্ট বরদাশত করা হবে না বলেছিলেন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অবৈধ উচ্ছেদ চালানোর প্রস্তুতি শুরু করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা