kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

ডিজিটাল আইনে গ্রেপ্তার শ্রমিক নেতা রুহুল জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিজিটাল আইনে গ্রেপ্তার শ্রমিক নেতা রুহুল জেলে

প্রতীকী ছবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক রুহুল আমিনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল সোমবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ সময় ঐক্য পরিষদের কর্মী-সমর্থকরা তাঁর মুক্তির দাবিতে আদালত চত্বরে স্লোগান দিয়েছে। তার আগে সকাল ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে তারা ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান ও বিক্ষোভ করেছে।

শ্রমিক নেতা রুহুল আমিনকে গত শুক্রবার রাতে বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তার করে। তাঁকে ওই রাতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক দেখানো হয়। পরদিন গত শনিবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন।

অভিযোগ আনা হয়েছিল তার পর্যালোচনা প্রয়োজন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা চর্চা ও মতামত জানাতে গিয়ে ওই আইনের আওতায় যারা আটক হয়েছে, তাদের অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে।’

মুশতাক আহমেদের মতো একই ধরনের অভিযোগে আটক কার্টুনিস্ট আহমেদ কিশোরকে নির্যাতন বা তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানান হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেত। ওই অভিযোগের দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত এবং কিশোরের সুরক্ষা ও ভালো থাকা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। অন্য বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের যেকোনো অভিযোগও অনতিবিলম্বে তদন্ত করতে হবে।’

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর জানায়, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগকে ঘিরে তাদের উদ্বেগ অনেক পুরনো। ২০১৯ সালে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘ কমিটি বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আটক করেও অস্বীকার করা, পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সুপারিশ করেছিল।

মুশতাকের মৃত্যুর পর বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের খবরেও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। ওই ঘটনায় ৩৫ জন আহত এবং সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মুশতাকের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মত প্রকাশের অভিযোগে রুহুল আমিন নামের একজনকে গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া গেছে।

ব্যাশেলেত বলেন, সরকারের সমালোচকদের শাস্তি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেক ধারা নিয়ে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বেশ কিছু কাঠামো অনেক দিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ দ্রুত স্থগিত করা উচিত এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করতে আইনের ধারাগুলো পর্যালোচনা করা উচিত।’ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে তাঁর দপ্তর প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা